“সিন্ধু নদীর জল বন্ধ করলে যুদ্ধ…?”-ভারতের ভয়ে ফের পাকিস্তানের মন্ত্রীর ফাঁকা হুঙ্কার

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতের কঠোর অবস্থান এবং সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে দিল্লির কড়া মনোভাবের মুখে পাকিস্তান এখন বহুমুখী চাপের সম্মুখীন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়েছে যে, পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং বিদেশমন্ত্রী ইশাক ডার দেশটির পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যেই ভারতকে ‘যুদ্ধের হুমকি’ দিয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মহলের মতে, এই উচ্চকিত হুমকি আসলে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এবং কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতারই প্রতিফলন—একপ্রকার ‘ফাঁকা আওয়াজ’।
উত্তেজনার নেপথ্যে:
গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও অঞ্চলে এক সন্ত্রাসবাদী হামলা ঘটে, যার জন্য ভারত সরাসরি পাকিস্তানের দিকেই আঙুল তুলেছে। এই হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় নরেন্দ্র মোদী সরকার ১৯৫০ সালের সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করার মতো তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের একটি বিশাল অংশ তাদের জল সরবরাহের জন্য সিন্ধু নদীর উপর নির্ভরশীল, তাই ভারতের এই পদক্ষেপ ইসলামাবাদে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং তাদের উপর কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে।
ইশাক ডারের পার্লামেন্টে বক্তব্য:
এই প্রেক্ষাপটেই পাকিস্তানের পার্লামেন্টে ভাষণ দিতে গিয়ে উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশাক ডার ভারতের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক সুর গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, “ভারত যদি সিন্ধু চুক্তির আওতায় জল নিয়ে কোনো রকমের টানাটানি করে, সেটা যুদ্ধের শামিল। আমরা সেই অনুযায়ী জবাব দেব।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এটা ২৪ কোটি মানুষের জীবনের প্রশ্ন।” একইসঙ্গে ডার দাবি করেন যে পহেলগাঁও হামলায় পাকিস্তানের কোনো ভূমিকা নেই এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই ঘটনার একটি স্বাধীন তদন্ত চেয়েছেন।
দার আরও জানান যে পাকিস্তান ইতিমধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, চীন, তুরস্ক সহ বিশ্বের বহু গুরুত্বপূর্ণ দেশের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং ভারতের বিরুদ্ধে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানের অবস্থান এবং বিশ্লেষণ:
ইশাক ডারের বক্তব্যেই পাকিস্তানের দুর্বল অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে তিনি দাবি করেন যে “ভারত তার নিজস্ব ন্যারেটিভ গড়তে ব্যর্থ হয়েছে,” আবার অন্যদিকে নিজেই স্বীকার করেন যে, “আমাদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই যে ভারত কোনো নাটক করেছে। কিন্তু মনে হচ্ছে এটা নাটকই।” বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানের যুক্তির দুর্বলতা এবং বাস্তব পদক্ষেপের অভাবকেই নির্দেশ করে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যখন একটি দেশ তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা এবং অভ্যন্তরীণ জঙ্গি কার্যকলাপের মতো গভীর সমস্যায় জর্জরিত থাকে, তখন বাইরের শত্রুকে উদ্দেশ্য করে এমন উচ্চকিত হুমকি আসলে নিজের দেশের মানুষকে শান্ত রাখার বা বোঝানোর এক কৌশল মাত্র। পাকিস্তানের এই হুমকি ঠিক তেমনই— ‘বাঘে ধান খায় না, গর্জনে মাঠ কাঁপায়’ গোছের। ভারতের কূটনীতি এখন অনেক বেশি দৃঢ় এবং বাস্তববাদী পথে চলছে। সিন্ধু জলচুক্তি হোক বা আন্তর্জাতিক চাপ— এখন আর পুরনো দিনের ‘গিদড় ভভকি’তে কাজ হবে না বলেই কূটনৈতিক মহল মনে করছে।
সব মিলিয়ে, পহেলগাঁও হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ভারতের কঠোর মনোভাব পাকিস্তানকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাদের ‘যুদ্ধের হুমকি’ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।