ফাঁস হল ISI-র ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র, ভারতীয় অফিসারের নাম করে ফোন, জানতে চেয়েছিল এই তথ্য? তারপর

জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সন্ত্রাসী হত্যাকাণ্ডে পাকিস্তানের যোগ ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। এই হামলার অন্যতম মূলচক্রী বা মাস্টারমাইন্ড হাসিম মুসা আদতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীরই একজন সদস্য ছিলেন বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তাকে ‘ফৌজি’ নামেই ডাকা হত। পহেলগাঁও হামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই পাকিস্তানের জড়িত থাকার প্রমাণ আরও স্পষ্ট হচ্ছে।

এখানেই শেষ নয়, এবার আরও বিস্ফোরক তথ্য এসেছে সামনে। জানা গেছে, ভারতের বিরুদ্ধে একটি বড়সড় চক্রান্ত করছিল পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI)। গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আইএসআইয়ের নতুন ছক অনুযায়ী, কাশ্মীরে ভারতীয় সেনার গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছিল। ভারতীয় সেনার অফিসারের নাম উল্লেখ করে ফোন করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার চেষ্টাও করা হয়েছিল আইএসআইয়ের এজেন্টদের তরফে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে, এটি ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একটি ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের অংশ।

গোয়েন্দাদের ধারণা, আইএসআই বিশেষ করে সেনারা যে গাড়িতে যাতায়াত করেন, তার রুট বা রাস্তা সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা করছে। হোশিয়ারপুরে সেনা নিয়ে যাওয়া ট্রেনের গতিবিধি এবং সময় সম্পর্কেও খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করে তারা। এই ধরনের তথ্য সংগ্রহের প্রচেষ্টা দেখে মনে করা হচ্ছে, তাদের হয়তো ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপরও হামলা করার পরিকল্পনা ছিল। খবর সূত্রের খবর, মুকেরিয়া, পাঠানকোট এবং ভাতিন্ডা সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফোন করে আইএসআইয়ের এজেন্টরা গোপন তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছিল। ভারতীয় গোয়েন্দাদের হাতে আইএসআই এজেন্টদের ফোনে কথোপকথনের সেই রেকর্ড এসে পৌঁছেছে এবং তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এরই মধ্যে পহেলগাঁও হামলায় জড়িত পলাতক জঙ্গিদের খুঁজতে কাশ্মীর উপত্যকা জুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী লাগাতার তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। শ্রীনগরের ২৬টি সহ বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। পহেলগাঁও হামলার ঘটনায় ইতিমধ্য়েই UAPA ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। নিহতদের পরিবারের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত ভিডিওগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) বিভিন্ন ভিডিও হাতে পেয়েছে এবং সেগুলো যাঁরা রেকর্ড করেছেন, তাঁদের বয়ানও নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য স্থানীয়দের কাছ থেকেও ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে, পহেলগাঁও হামলার কিনারা করতে এবং জড়িত জঙ্গিদের ধরতে কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনী, সিআরপিএফ ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এই হামলার পেছনে পাকিস্তানের গভীর ষড়যন্ত্রের বিষয়টি সামনে আসায় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।