কতদিন রিচার্জ না করলে সিম চালু থাকবে জানেন? Jio-airtel চালু করল নতুন নিয়ম, জেনেনিন

বর্তমানে প্রায় প্রতিটি স্মার্টফোনেই অন্তত একটি জিও বা এয়ারটেলের প্রিপেইড সিম কার্ড থাকে। অনেক সময় ব্যস্ততার ফাঁকে আমরা রিচার্জ করতে ভুলে যাই, ভেবে থাকি দু-চার দিন না করলে হয়তো বড় কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু টেলিকম সংস্থাগুলো এখন এই বিষয়ে কড়া নিয়ম চালু করেছে, যা আপনার নম্বরটি বন্ধও করে দিতে পারে। রিচার্জ ছাড়া আপনার সিম ঠিক কতদিন পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে, আসুন জেনে নেওয়া যাক জিও এবং এয়ারটেলের নতুন নিয়মগুলো।

জিও সিমের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম:

জিওর নিয়ম অনুযায়ী, যদি আপনার প্ল্যানের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং আপনি রিচার্জ না করেন, তাহলে প্ল্যান শেষ হওয়ার ঠিক সাত দিন পর আপনার আউটগোয়িং কল পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাবে। অর্থাৎ, আপনি আর কাউকে ফোন করতে পারবেন না। তবে স্বস্তির খবর হলো, আপনার নম্বরে ইনকামিং কল আসা আরও অনেকটা সময় চালু থাকবে। জিও সিমে প্রায় ৯০ দিন বা তিন মাস পর্যন্ত ইনকামিং কল পরিষেবা সচল থাকতে পারে।

কিন্তু জিও এখন নিষ্ক্রিয় সিমের বিষয়ে বেশ কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। যদি আপনার নম্বরে প্ল্যানের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ৯০ দিন বা তিন মাস পেরিয়ে যায় এবং এর মধ্যে কোনো রিচার্জ না করা হয়, তাহলে সেই নম্বরটি সরাসরি ব্লক করে দেওয়া হবে। একবার নম্বর ব্লক হয়ে গেলে সেটি আর সাধারণত ফিরে পাওয়া যায় না। নম্বর বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে জিও নিয়মিত এসএমএস পাঠিয়ে গ্রাহকদের সময়মতো রিচার্জ করার জন্য আগাম সতর্ক করে দিচ্ছে।

এয়ারটেল সিমের নয়া নিয়ম:

এয়ারটেল তাদের গ্রাহকদের জন্য জিওর চেয়ে কিছুটা ভিন্ন নিয়ম নিয়ে এসেছে। এয়ারটেল সিমে রিচার্জ শেষ হওয়ার পর প্রায় ১৫ দিন পর্যন্ত আপনার আউটগোয়িং কল পরিষেবা চালু থাকতে পারে। এটি জিওর সাত দিনের নিয়মের চেয়ে কিছুটা বেশি সময়। এয়ারটেলের ক্ষেত্রে ইনকামিং কল সাধারণত প্রায় ৬০ থেকে ৯০ দিন পর্যন্ত আসতে পারে, তবে এটি নির্ভর করে গ্রাহকের পূর্ববর্তী ব্যবহারের ধরনের উপর।

কিন্তু এয়ারটেলও দীর্ঘদিন রিচার্জ না হওয়া সিম কার্ডগুলির ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে। জানা যাচ্ছে, যদি আপনার এয়ারটেল সিম দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ক্রিয় থাকে এবং আপনি রিচার্জ না করেন, তাহলে মাত্র সাত দিনের মধ্যেই আপনার নম্বরটি ব্লক করে দেওয়া হতে পারে। এয়ারটেলও নিয়মিত এসএমএস পাঠিয়ে গ্রাহকদেরকে রিচার্জ করে সিম সচল রাখার জন্য সতর্ক করে দিচ্ছে।

কেন এই পরিবর্তন আনছে টেলিকম সংস্থাগুলি?

এই নতুন এবং কড়া নিয়মগুলো মূলত টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (TRAI)-এর নির্দেশনার জেরেই চালু হচ্ছে। TRAI চায় যে টেলিকম অপারেটররা নিষ্ক্রিয় সিম কার্ডগুলি দ্রুত চিহ্নিত করে বন্ধ করে দিক। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো দেশে অব্যবহৃত সিমের সংখ্যা কমানো এবং এর মাধ্যমে নেটওয়ার্কের গুণগত মান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা। এই কারণেই জিও বা এয়ারটেলের মতো সংস্থাগুলো চাইছে যে গ্রাহকরা তাদের সিম কার্ড অন্তত প্রতি ৯০ দিনের মধ্যে একবার হলেও রিচার্জ করে সক্রিয় রাখুক।

সুতরাং, আপনার মোবাইল নম্বরটি যদি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয় এবং আপনি সেটি হারাতে না চান, তাহলে সময়মতো রিচার্জ করা অত্যন্ত জরুরি। সিম বন্ধ হয়ে গেলে নতুন করে নম্বর পেতে যেমন ঝামেলা পোহাতে হবে, তেমনই আপনার ওই নম্বরের সঙ্গে যুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ওটিপি গ্রহণ, বিভিন্ন অনলাইন পরিষেবার অ্যাক্সেস এবং প্রিয়জনদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম হারানোর মতো বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই ভবিষ্যতের বিপদ এড়াতে আগেভাগে সতর্ক হন এবং নিয়মিত আপনার সিম ব্যবহার ও রিচার্জ করুন।