হঠাৎ বলে উঠলো ‘আল্লাহু আকবর’! সেলফি ভিডিয়োতে ধরা পড়ল পহেলগাঁওয়ের হাড়হিম ঘটনা, জানালেন পর্যটক

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলার এক চাঞ্চল্যকর এবং হাড়হিম করা প্রত্যক্ষ প্রমাণ সামনে এসেছে। এক পর্যটকের সেলফি ক্যামেরায় তোলা একটি ভিডিয়ো যেন ঘটনার বীভৎস রূপকেই সরাসরি তুলে ধরেছে। যে ভিডিয়োতে অ্যাডভেঞ্চারের উচ্ছ্বাস থাকার কথা ছিল, সেখানে ধরা পড়েছে পেছনের গুলি, মানুষের আর্তনাদ আর মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তির অনিশ্চিত মুহূর্ত।
ঋষি ভাট নামে এক পর্যটক স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে পহেলগাঁও ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেখানেই তিনি জিপ লাইনিং অ্যাক্টিভিটি করছিলেন। তাঁর সেলফি ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ১৫ ফুট উঁচুতে দড়িতে ঝুলে রয়েছেন তিনি। মুখে তখনও অ্যাডভেঞ্চারের হাসি, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ unaware। কিন্তু ক্যামেরা যা ধরে রেখেছে, তা ভয়ঙ্কর। ভিডিয়োর ব্যাকগ্রাউন্ডে শোনা যাচ্ছে গুলির শব্দ, আর নিচে মানুষের মধ্যে প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি ও চিৎকার। এমনকি একজন ব্যক্তিকে গুলি লেগে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে।
ঋষি ভাট টিভি৯-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, জিপ লাইন শুরু করার ঠিক আগে, ওই অপারেটর যুবক আচমকা তিনবার ‘আল্লাহু আকবর’ বলে চিৎকার করে ওঠেন। আর প্রায় একই মুহূর্তে শোনা যায় গুলির শব্দ। শব্দ শুনেও প্রথমটায় জিপ লাইনের অ্যাডভেঞ্চারের মধ্যে থাকা ঋষি ঠিক কী হচ্ছে বুঝে উঠতে পারেননি। অপারেটরও তাঁকে থামাননি, দড়িতে তুলে দেন।
তবে ভিডিয়োতে নিচে মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক আর ছোটাছুটি দেখে কিছুটা আঁচ করতে পারেন তিনি। আর নিচে স্ত্রী-সন্তানের চিৎকার শুনেই পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করেন ঋষি। জীবনের ঝুঁকি না নিয়ে তিনি জিপ লাইনের দড়ি খুলে প্রায় ১৫ ফুট উপর থেকে মাটিতে ঝাঁপ দেন। নিচে নেমেই স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। ঋষি জানিয়েছেন, দৌড়ানোর সময় ৬-৭ ফুট দূরত্বেই কয়েকজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছেন তিনি। কোনোমতে তিনি স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে কাছের জঙ্গলে লুকিয়ে পড়েন।
কিছুক্ষণ পর গোলাগুলি থেমে গেলে সবাই সেখান থেকে আবার দৌড়তে শুরু করে। এর কিছুক্ষণ পরেই আবারও ৩-৪ রাউন্ড গুলিবর্ষণ হয় বলে জানান তিনি। রাতে যখন তিনি তাঁর ক্যামেরায় তোলা ভিডিয়োটি দেখেন, তখনই তিনি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র এবং ভয়াবহতা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেন। ভিডিয়োতে অপারেটরের সেই চিৎকারের সময় এবং গুলির শব্দের সূচনার মুহূর্ত দেখে তাঁর সন্দেহ হয় যে, ওই অপারেটর হয়তো হামলার বিষয়ে আগে থেকেই ওয়াকিবহাল ছিল।
অ্যাডভেঞ্চারের একটি মুহূর্তের ব্যক্তিগত ভিডিয়ো কীভাবে এমন একটি ভয়ঙ্কর জঙ্গি হামলার সরাসরি প্রমাণ হয়ে উঠল, তা ভাবলে শিউরে উঠতে হয়। মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে আসা ঋষি ভাটের এই অভিজ্ঞতা পহেলগাঁও হামলার ভয়াবহতাকে আরও একবার নতুন করে সামনে আনল।