“সর্বনিম্ন ভাড়া ১১০০ টাকা”-বন্দে ভারত কবে মধ্যবিত্তের হবে? ভাড়া কমানোর আর্জি উঠলো সংসদে

দেশের সবচেয়ে দ্রুতগামী এবং জনপ্রিয় ট্রেন ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেস’-এর ভাড়া কমানো হতে পারে বলে জল্পনা ‍শুরু হয়েছে। সম্প্রতি সংসদে এক কংগ্রেস সাংসদ এই ট্রেনের টিকিট সাধারণ যাত্রীদের ক্রয়ক্ষমতার নাগালে আনার জন্য ভাড়া কমানোর প্রস্তাব দেন। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সেই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দেননি, যার ফলে এই সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে। মন্ত্রীর এই নীরবতাকে অনেকে ‘মৌনং সম্মতি’ হিসেবে দেখছেন এবং মনে করছেন, সত্যিই যদি ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে সেটি ভারতীয় রেলের জন্য একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারে।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লি থেকে বারাণসী রুটে বাণিজ্যিক ভাবে যাত্রী পরিবহণ শুরু করার পর থেকে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসই হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় দূরপাল্লার ট্রেন। প্রথম যাত্রার ছ’বছরের মধ্যে এই সেমি হাইস্পিড ট্রেন দেশের ১৩৬টি রুটে ক্রমাগত পরিষেবা দিয়ে চলেছে। যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে আপস না করে এবং সর্বোচ্চ গতি (ঘণ্টায় ১৩০ কিমি পর্যন্ত) বজায় রেখে চলা এই ট্রেনটির যাত্রার সময় সাধারণত আট থেকে দশ ঘণ্টা হয় এবং উৎস ও গন্তব্য স্টেশনের দূরত্ব থাকে প্রায় ৮০০–৮৫০ কিলোমিটারের মধ্যে। ভারতীয় রেলের হিসেব অনুযায়ী, পরিষেবা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের যাত্রীসংখ্যা তিন কোটি ছাড়িয়ে গেছে।

এত জনপ্রিয়তা এবং উন্নত পরিষেবা থাকা সত্ত্বেও ভাড়ার অঙ্কের জন্য এই ট্রেন এখনও ‘সাধারণ যাত্রী’র নাগালের বাইরেই রয়ে গেছে। বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের সর্বনিম্ন ভাড়া শুরু হয় প্রায় ১১০০ টাকা থেকে, যা অনেকের কাছেই ব্যয়বহুল। সেই কারণেই কংগ্রেস সাংসদ রাকিবুল হুসেন সংসদে এমন একটি প্রস্তাব এনেছেন যাতে এই ট্রেনের টিকিট মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার নাগালে আসে।

রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই প্রস্তাব নিয়ে সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’, কোনও মন্তব্যই করেননি। তবে সরাসরি কংগ্রেস সাংসদের আবেদন নাকচ করে দেননি। তাতেই উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। মন্ত্রীর এই নীরবতাকে অনেকে ‘মৌনং সম্মতি’ অর্থাৎ নীরবতাই সম্মতির লক্ষণ হিসেবে মনে করছেন এবং আশাবাদী যে ভাড়া কমানোর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ভারতীয় রেলের হিসেব অনুযায়ী, বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের ‘সিট অকুপেন্সি’ কোনও কোনও রুটে ১০০ শতাংশেরও বেশি থাকে, যার অর্থ চাহিদা প্রবল। প্রথম যাত্রী যে স্টেশনে নামেন, সেই স্টেশন থেকেই অন্য যাত্রী টিকিট বুকিং করে সেই খালি সিট পূরণ করেন। বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চূড়ান্ত জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর এ বার ভারতীয় রেলও এই ট্রেনকে আরও বেশি সংখ্যক ‘সাধারণের বন্ধু’ করে তোলার জন্য ভাবনা–চিন্তা শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে রেল–সূত্রে। তেমনই পরিস্থিতিতে সংসদে এমন প্রস্তাব আসা এই ভাবনারই প্রতিফলন।

ইতিমধ্যেই তুলনামূলক স্বল্প দূরত্ব পাড়ি দেওয়ার জন্য বন্দে ভারত মেট্রো ওরফে নমো ভারত র‌্যাপিড রেল চালু হয়েছে। সারা রাত জার্নির জন্য বন্দে ভারত স্লিপার চালু হওয়াও সময়ের অপেক্ষা। সেমি হাইস্পিড ট্রেনের একাধিক এমন সংস্করণ থাকার এই সুযোগ কি কাজে লাগিয়ে কোনও এক সংস্করণের (সম্ভবত চেয়ার কার) ভাড়া কিছুটা কমাবে রেল? সরাসরি উত্তর না থাকলেও রেলমন্ত্রীর নীরবতা অনেককে আশাবাদী করে তুলেছে যে, ভবিষ্যতে এই জনপ্রিয় ট্রেনটিতে ভ্রমণ আরও সাশ্রয়ী হতে পারে।