“১৫ হাজার পাকিস্তানির ভবিষ্যৎ কী?”-যাঁরা ভারত ছাড়তে পারলেন না, তাঁদের এখন কি হবে?

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে গত মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) জঙ্গিদের গুলিতে ২৬ জন নিরীহ মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কে নতুন করে চরম অবনতি ঘটায়। এই হামলায় পাকিস্তান–যোগ নিশ্চিত হওয়ার পরেই ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে ভারত। সেই নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, স্বল্পমেয়াদি ভিসায় আসা পাক নাগরিকদের রবিবার রাত বারোটার মধ্যে এবং মেডিক্যাল ভিসায় আসা নাগরিকদের আজ, মঙ্গলবার রাত বারোটার মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই সময়সীমার মধ্যে সব পাকিস্তানি কি আদৌ ভারত ছাড়তে পারলেন? কতজনই বা রয়ে গেলেন? এই প্রশ্নগুলির মধ্যেই সরকারি সূত্রে খবর মিলেছে, দেশজুড়ে প্রায় ১৫,০০০-এরও বেশি পাক নাগরিক এখনও ভারতে রয়েছেন যাদের দ্রুত ফেরত পাঠানো প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় সরকার এদের ফেরাতে তৎপর হয়েছে এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

সময়সীমার মধ্যে কতজন পাকিস্তানি ভারত ছাড়লেন তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। তবে সরকারি সূত্রের খবর, গত ছ’দিনে ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তানে ফিরে গিয়েছেন অন্তত ৮০০ পাকিস্তানি। অন্যদিকে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও ভারতের উপরে ভিসা–নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে, যার জেরে গত ছ’দিনে ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে ভারতে ফিরে এসেছেন অন্তত ১,০০০ ভারতীয়।

সোমবার আত্তারি সীমান্তে ভারত ছেড়ে যাওয়া লোকজনের পরিচয়পত্র খতিয়ে দেখেন বিএসএফ আধিকারিকরা। অনেককেই কাঁদতে কাঁদতে ভারত ছাড়তে দেখা যায়। ভারত ছাড়তে বাধ্য হওয়া এমন অনেকের মধ্যে ছিলেন মহারাষ্ট্রের নাগপুরে বেড়াতে আসা এক পাকিস্তানি মহিলা। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বললেন, ‘বাধ্য হয়ে ফিরে যাচ্ছি, কিন্তু অন্য কারও কাজের জন্য আমাদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। যা ঘটেছে, তা নিন্দনীয়, কিন্তু তার জন্য দু’দেশের সাধারণ মানুষকে শাস্তি দিয়ে লাভ কী?’

এর মধ্যেই নিয়ম ফাঁকি দিয়ে ভারতে থেকে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় দু’জন পাকিস্তানিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুয়ো তথ্য দিয়ে ভারতের ভোটার আইডি কার্ড বানিয়ে বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন ইফতিকার শেখ (২৯) এবং আরনিশ শেখ (২৫) নামে ওই দুই পাকিস্তানি। তাঁদের ছত্তিসগড়ের রায়গড় থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সরকারি সূত্রের খবর এবং সোমবার প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশে এখনও রয়ে গিয়েছেন অন্তত ১,৪০০ পাকিস্তানি, অন্যদিকে মহারাষ্ট্র ও দিল্লি মিলিয়ে রয়েছেন আরও কয়েক হাজার পাকিস্তানি। এ ছাড়া দক্ষিণ ভারতে চিকিৎসার প্রয়োজনে আসা পাকিস্তানিরা তো রয়েছেনই। কমিটির বৈঠকে বিরোধী শিবিরের সদস্যদের তোলা এই প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে এই মুহূর্তে প্রায় ১৫,০০০-এরও বেশি পাক নাগরিক ভারতে রয়েছেন, যাঁদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে হবে।

গোটা বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে সব রাজ্যে অবস্থিত ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস বা এফআরআরও-র মাধ্যমে। এ ব্যাপারে প্রতিটি রাজ্যকে তৎপর হওয়ার আবেদন করে ক’দিন আগেই মুখ্যমন্ত্রীদের ব্যক্তিগত ভাবে ফোনও করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

উল্লেখ্য, এই সময়সীমার পরও যারা ভারতে রয়ে যাবেন, তাদের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের অভিবাসন এবং বিদেশি আইনের ২৩ ধারা অনুসারে ৩ বছরের কারাদণ্ড, ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা বা দুটিই এক সঙ্গে হতে পারে।

পহেলগাম হামলার জেরে সৃষ্ট কূটনৈতিক উত্তেজনার মাঝে ভারতে অবস্থানরত বিপুল সংখ্যক পাক নাগরিককে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার এফআরআরও-র মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করছে।