বিয়েতে মেলেনি পনির, ক্ষেপে গিয়ে বিয়ের মণ্ডপের উপর দিয়ে চালিয়ে দিলেন বাস, আহত ৬

বিয়ের মেন্যুতে পছন্দের পদ না থাকা নিয়ে অনেক সময় ছোটখাটো মনোমালিন্য হলেও হতে পারে চরম পরিণতি, তা হয়তো কেউ ভাবেননি। উত্তরপ্রদেশের মুঘলসরাইয়ের কোতওয়ালি এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ঠিক এমনটাই ঘটল। পাতে পনির না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে এক ব্যক্তি বরযাত্রীর বাস সোজাসুজি তুলে দিলেন বিয়ের মণ্ডপের উপরে! এই ভয়াবহ ঘটনায় মণ্ডপ লণ্ডভণ্ড হওয়ার পাশাপাশি আহত হয়েছেন অন্তত ৬ জন।
মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে বহু কষ্ট করে জমানো টাকায় রাজনাথ যাদব এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। তিনি হয়তো দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করেননি যে, সামান্য একটি কারণে তাঁর মেয়ের বিয়েতে এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় বাস ভর্তি বরযাত্রী নির্দিষ্ট সময়েই বিয়ে বাড়িতে এসে পৌঁছেছিল। মণ্ডপে তখন চলছিল চূড়ান্ত ব্যস্ততা ও আনন্দের পরিবেশ। এরই মধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছিল ভূরিভোজ। অভিযুক্ত ধর্মেন্দ্র যাদব নামে এক ব্যক্তি খাবার খেতে গিয়ে দেখেন মেন্যুতে পনির নেই। অভিযোগ, এতেই তিনি চরমভাবে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। কথা কাটাকাটি থেকে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, রাগের মাথায় তিনি বরযাত্রীদের নিয়ে আসা একটি আস্ত বাস সোজাসুজি বিয়ের মণ্ডপের উপরেই চালিয়ে দেন!
এই আকস্মিক ও বিধ্বংসী ঘটনায় বিয়ের মণ্ডপের প্রায় ৩ লক্ষ টাকার সামগ্রী নষ্ট হয়ে যায়। আরও দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, মণ্ডপে উপস্থিত অন্তত ছয় জন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে বরের বাবা ও কাকাও রয়েছেন।
মেয়ের বাবা রাজনাথ যাদব পরে ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, “ধর্মেন্দ্র এসেই খেতে চলে গিয়েছিল। বারবার পনির চাইছিল। কিন্তু যেহেতু সেটা মেন্যুতে ছিল না, তাই দেওয়া সম্ভব হয়নি। তখনই ওঁর মাথা গরম হয়ে যায় এবং এমন কাণ্ড ঘটায়। অনেক টাকার ক্ষতি তো হয়েছেই, সেই সঙ্গে বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছেন।”
ঘটনা ঘটিয়েই অভিযুক্ত ধর্মেন্দ্র যাদব দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এই নজিরবিহীন ঘটনার পর সেই দিনের মতো বিয়ের অনুষ্ঠান পুরোপুরি পণ্ড হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে রাজনাথ যাদবের পরিবার স্থানীয় থানায় ধর্মেন্দ্রর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সামান্য পনির না পাওয়াকে কেন্দ্র করে এমন তাণ্ডবের ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।