“কিছুতেই এই গাছ কাটতে দেবো না”-শহরের প্রাচীন গাছ কাটা আটকে দিলো স্থানীয়দের প্রতিবাদ

রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য একটি সুপ্রাচীন অশ্বত্থ গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে মেদিনীপুর শহরের গির্জা এলাকার এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রতিবাদ এবং গাছ জড়িয়ে খুদেদের দাঁড়িয়ে থাকার মতো আবেগঘন দৃশ্যের পর সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটল প্রশাসন। শহরবাসীর প্রবল আবেদনে সাড়া দিয়ে গাছটি বাঁচিয়ে রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

মেদিনীপুর শহরের গির্জা এলাকার একটি নামকরা ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের সামনে অবস্থিত এই অশ্বত্থ গাছটির বয়স প্রায় ৬০-৭০ বছর। গাছটির দু’পাশে সরু রাস্তা। বিশাল এই গাছটির নীচে বসে বিশ্রাম নেন বহু মানুষ। রোদ-ঝড়-বৃষ্টিতে স্কুলের বাচ্চাদের নিয়ে আসা বা নিতে আসা অভিভাবকরাও এই বৃক্ষতলেই আশ্রয় নেন। বহু পাখির বাসস্থান এই গাছটি শুধুমাত্র একটি গাছ নয়, বহু বছর ধরে শহরবাসীর কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ল্যান্ডমার্ক ও প্রাচীন ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। শহরের যে সমস্ত প্রাচীন বট বা অশ্বত্থ গাছ আছে, তার মধ্যে সিপাইবাজার সংলগ্ন গির্জা এলাকার এই গাছটি অন্যতম বলে জানান শহরবাসী।

রবিবার শহরবাসী জানতে পারেন যে, রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই গাছটি কাটা হবে। এই খবরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। রবিবার সন্ধ্যায় এক সমাজকর্মী ফেসবুকে গাছটির বয়স, তার নিচে মানুষের আশ্রয় এবং পাখির বাসস্থানের কথা উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন যে, শহর বাড়লেও এই গাছটিকে রক্ষা করে কি রাস্তা সম্প্রসারণ করা যায় না?

ওই পোস্ট মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এবং সোমবার সকালেই বহু শহরবাসী গাছটির সামনে হাজির হয়ে প্রতিবাদে সামিল হন। পুরপ্রধান সৌমেন খান এবং স্থানীয় কাউন্সিলররাও ঘটনাস্থলে যান। শহরবাসী এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গাছটি না কাটার জন্য তাঁদের কাছে তীব্র আবেদন জানানো হয়। গণ সই সংগ্রহ করে পুরপ্রধানের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ছোট্ট ছেলেমেয়েরাও গাছটিকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে ছিল, যা এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে।

পুরপ্রধান সৌমেন খান দ্রুত পূর্ত দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়রের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। পূর্ত দপ্তরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং পুরপ্রধান, স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের আবেদনে সাড়া দেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে গাছটি কাটা হবে না এবং বিকল্প পথ ভাবতে হবে। পুরপ্রধান পরে জানান, পূর্ত দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন। তাঁরা পূর্ত দপ্তরকে জানিয়েছেন যে গাছ না কেটেই রাস্তা সম্প্রসারণ করতে হবে। ওই জায়গায় পার্কিংয়ের সমস্যার জন্য যানজট তৈরি হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং স্কুল কর্তৃপক্ষকেও উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।

এদিন দুপুরে মহকুমাশাসক মধুমিতা মুখোপাধ্যায় জানান, তাঁরা পুরপ্রধানের কাছে সবটা শোনার পরই পদক্ষেপ করেন এবং পূর্ত দপ্তরকে নির্দেশ দেন গাছ না কেটেই বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে। প্রয়োজনে বনদপ্তরের সঙ্গেও কথা বলার কথা বলেন তিনি। আপাতত পূর্ত দপ্তর পুরসভাকে জানিয়েছে যে গাছ কাটা হবে না। শহরবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রক্ষা পেল ঐতিহ্যবাহী এই প্রাচীন বৃক্ষ।