PoK-তে জঙ্গিদের বাঁচাতে তত্পর পাক সেনা, ভারতের আতঙ্কে জায়গা দিচ্ছে নিজেদেরই বাঙ্কারে

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উপমহাদেশে চরম উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়া গেছে যে, পাকিস্তান সীমান্তের লঞ্চ প্যাডগুলি থেকে জঙ্গিদের সরাতে শুরু করেছে। জঙ্গিদের সীমান্তের কাছে থাকা আস্তানাগুলি থেকে সরিয়ে পাক সেনার ক্যাম্পগুলিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে খবর। ভারতের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় পাকিস্তান এই তড়িঘড়ি উদ্যোগ নিচ্ছে কিনা, তা নিয়ে এখন জোর জল্পনা চলছে।
গোয়েন্দা মহলের ধারণা, পহেলগাঁও হামলার পর ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া আসন্ন, এই আঁচ পেয়েই পাকিস্তান আগে থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা হিসেবে জঙ্গিদের আড়াল করতে চাইছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পহেলগাঁও হামলার পরই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন যে হামলাকারীদের উচিত শিক্ষা দেওয়া হবে এবং নিহতদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। ২০১৬ সালে উরি হামলার পর ভারত যে ভাবে সার্জিকাল স্ট্রাইক চালিয়ে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে থাকা জঙ্গি লঞ্চ প্যাডগুলি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল, সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে অনেকেই মনে করছেন, এবারও হয়তো ভারত বড় ধরনের প্রত্যাঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই আশঙ্কায়ই পাকিস্তান জঙ্গিদের সরাচ্ছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
তবে ভারতীয় সেনা সূত্রের খবর অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) পেরিয়ে সরাসরি জঙ্গিঘাঁটিগুলিতে হামলার এখনই কোনও পরিকল্পনা নেই। বরং পাক সেনার ঘাঁটিগুলোকেই লক্ষ্য করে পরবর্তী কৌশল সাজানো হচ্ছে। সীমান্তের দুই পারেই এখন প্রবল সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত বড় আকারে কোনও সামরিক সরঞ্জাম সীমান্তের কাছে মোতায়েন করা হয়নি বলে জানা গেছে।
এদিকে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক দিক দিয়েও ভারত ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের উপর চাপ বাড়াতে শুরু করেছে। পাকিস্তানের কাছ থেকে ‘মোস্ট ফেভার্ড নেশন’ (MFN) মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, পাকিস্তান থেকে আমদানিকৃত পণ্যের উপর ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত।
দেশের মধ্যে ‘বদলা চাই’ স্লোগান এখন প্রতিটি প্রান্তে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। ভারত কি এবার সত্যিই বড়সড় সামরিক প্রত্যাঘাতের পথে হাঁটবে? নাকি কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করবে? এই মুহূর্তে এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। এর উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে। তবে আপাতত সীমান্তের ওপারে পাকিস্তানের অস্বস্তি যে চোখে পড়ার মতো, তা স্পষ্ট।