“বালাকোটের মতো নয়, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দরকার…?”-জঙ্গি হামলায় মুখ খুললেন ফারুক আবদুল্লা

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং বর্ষীয়ান নেতা ফারুক আবদুল্লা। তাঁর মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে এখন আলোচনার কোনও প্রশ্নই ওঠে না এবং প্রতিবেশী দেশটির বিরুদ্ধে ভারতের জন্য একটি ‘ফুল অ্যান্ড ফাইনাল’ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

ফারুক আবদুল্লার মতে, ভারত দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানকে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে মর্যাদা দিয়ে এলেও পাকিস্তান সেই মর্যাদা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার কোনও প্রশ্নই ওঠে না, কারণ তারা মানবতার হত্যা করেছে এবং তা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হলেও ভারত আজও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি মেনে চলেছে এবং সব ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির সঙ্গে বাস করে, যা পাকিস্তান মানতে নারাজ।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দৃঢ় বিশ্বাস, পাকিস্তান যদি মনে করে যে এই ধরনের হামলা চালিয়ে তারা ভারতকে দুর্বল করবে বা কাশ্মীরের মানুষকে নিজেদের দিকে টানবে, তাহলে তারা ভুল করছে। তিনি বলেন, এই ধরনের কাজ আমাদের শক্তি আরও বাড়িয়ে তুলছে এবং ভারত এর যোগ্য জবাব দেবে। “যদি পাকিস্তান মনে করে এর ফলে আমরা ওদের সঙ্গে চলে যাব তাহলে ভুল ভাবছে। ১৯৪৭ সালে আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে যাইনি। আজ তাহলে কেন যাব?” প্রশ্ন তোলেন তিনি। দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশ ভাগ হলেও ভারতে সবাই সব ধর্মকে সম্মান করে একসঙ্গে থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ফারুক আবদুল্লা জানান, একসময় তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পক্ষে ছিলেন এবং এ কথা আগেও বহুবার বলেছেন। তবে পহেলগাঁও হামলায় নিহতদের পরিবারের কাছে আজ আমাদের কী জবাব আছে, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এটি আর হতে পারে না। তাঁর মতে, আজ গোটা দেশ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ফুঁসছে। দেশের মানুষের দাবি, এবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বালাকোটের মতো নয়, বরং একটি ‘ফুল অ্যান্ড ফাইনাল’ জবাব দেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে তারা এমন কাজ করার সাহস না দেখায়।

উল্লেখ্য, পহেলগাঁও কাশ্মীরের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র। সেখানে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক যান। সেখানেই জঙ্গিরা পর্যটকদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়, যার ফলে ২৬ জন নিহত এবং অনেকে আহত হন বলে জানা গেছে। এই হামলার পরই ভারত সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জল বণ্টন চুক্তি স্থগিত করার মতো কড়া পদক্ষেপ নেয়। হামলার কড়া জবাব দেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন যে দুষ্কৃতী ও তাদের মদতদাতাদের এমন জবাব দেওয়া হবে যা তারা স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেনি।

এদিকে, এই হামলার পর জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় (তৎকালীন বা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে) প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহও শোক প্রকাশ করেন। তিনি এই ঘটনা নিয়ে রাজনীতি না করে ঐক্যের ডাক দেন এবং দাবি করেন যে কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ জঙ্গিদের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে। পহেলগাঁও হামলার পর ফারুক আবদুল্লার এই কড়া বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।