আটক হাজারের উপর বাংলাদেশি, ‘ভুয়ো নথি তৈরি করা হয়েছে বাংলায়’-দাবি পুলিশের

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এই আবহে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে তৎপর হওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের ফোন করে বার্তা দিয়েছিলেন (যদিও খবরে পাকিস্তানীদের উল্লেখ করা হয়েছিল)। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার গভীর রাতে গুজরাটের আমেদাবাদ ও সুরাট শহরে চিরুনি–তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। এই অভিযানে এক হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। গুজরাট পুলিশের দাবি, এরা সকলেই অবৈধ ভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল এবং প্রত্যেকের কাছেই পশ্চিমবঙ্গের তৈরি ভুয়ো পরিচয়পত্র রয়েছে।
আটক করা হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিকের মধ্যে প্রচুর মহিলা ও শিশু রয়েছে। আমেদাবাদ শহর থেকে ৮৯৯ জনকে এবং সুরাট থেকে ১৩৪ জনকে আটক করা হয়েছে। গুজরাট স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হর্ষ সাংভির কথায়, ‘এই ধরনের বড়সড় অপারেশন এর আগে এ রাজ্যে হয়নি।’ তিনি অবৈধ ভাবে বসবাসকারীদের সতর্ক করে বলেন, ‘এখনও অবৈধ ভাবে যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আমরা কিন্তু খুঁজে বের করবই এবং ফেরত পাঠাব।’ এছাড়াও, অবৈধ ভাবে ঢুকে পড়া বাংলাদেশিদের আশ্রয়দাতাদেরও তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
গুজরাট পুলিশের তরফে আরও বলা হচ্ছে যে, আটক সকলের কাছেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে জোগাড় করা ভুয়ো পরিচয়পত্র রয়েছে। অভিযোগ, সেই ভুয়ো নথি ব্যবহার করেই এরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং পরে গুজরাটে আসে। এদের অনেকেই ড্রাগ পাচার, নারী পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। কিছুদিন আগে আল কায়দার স্লিপার সেলের সদস্য দুই বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে পুলিশ, যা এই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিপদ সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়।
এ দিনই রাজ্য পুলিশের কর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মিটিং করেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হর্ষ সাংভি। মিটিং শেষে তিনি বলেন, ‘পুলিশকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল রাজ্য থেকে অবৈধ অভিবাসীদের খুঁজে বের করতেই হবে। অন্য দেশের লোক আমাদের এখানে অবৈধ ভাবে থাকবে, তা হতে পারে না। কারা ভুয়ো নথি তৈরি করে দিচ্ছে, তাদেরও খুঁজে বের করে তদন্ত হবে।’ তিনি আরও জানান যে, বাংলা থেকেই যে ভুয়ো নথি তৈরি হয়েছে সেই সংক্রান্ত প্রমাণ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে পাঠানো হবে।
গুজরাটের ডিজিপি বিকাশ সহায় বলেন, ‘ধৃতদের জেরা করে তারা কোন দেশের নাগরিক সে সম্পর্কে জানা গিয়েছে। এ বার উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিএসএফের সহযোগিতায় এদের প্রত্যর্পণের ব্যবস্থা করা হবে।’ উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে এদের সকলকেই প্রত্যর্পণ করা হবে বলে জানিয়েছে গুজরাট পুলিশ।