“পাক জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিতে দরকার….?’,-বায়ুসেনাকে বিশেষ পরামর্শ প্রাক্তন প্রধান অরূপ রাহার

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রত্যাঘাতের দাবি যখন জোরালো হচ্ছে, তখন হামলার যোগ্য জবাব দিতে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) আকাশপথে আঘাত হানাকে অন্যতম সেরা উপায় বলে মত দিয়েছেন ভারতীয় বায়ুসেনার এক প্রাক্তন উচ্চপদস্থ কর্তা। তাঁর মতে, এই প্রত্যাঘাতে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে ভারতের হাতে থাকা রাফাল যুদ্ধবিমান এবং এর সঙ্গে থাকা অত্যাধুনিক মিসাইলের কম্বিনেশন।
ওই প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রাফাল যুদ্ধবিমানের সঙ্গে ভারতের হাতে থাকা অত্যাধুনিক মিসাইলের কম্বিনেশন আকাশপথে যে কোনও লড়াই বা সংঘর্ষে দারুণ কার্যকর হতে পারে। এই ‘ডেডলি কম্বিনেশন’ বিপক্ষকে সহজেই মাত দিয়ে দিতে পারে। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের হাতেও এয়ার টু এয়ার মিসাইল আছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের দিয়েছিল। কিন্তু রাফালের মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সেই তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর।
তিনি বালাকোটের এয়ার স্ট্রাইকের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বালাকোটের সময়ে আমাদের অনেক বেশি ডিফেন্সিভ বা আত্মরক্ষামূলক মনোভাব নিয়ে এগোতে হয়েছিল। ওই প্রাক্তন কর্তা মনে করেন, এবার সম্ভাব্য স্ট্রাইকে রাফাল যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হলে এই ডিফেন্সিভ পজি়শনিংয়ের সমস্যা হবে না। বালাকোটের স্ট্রাইকের পরে আমাদের পাইলট অভিনন্দন বর্তমানের যুদ্ধবিমান দুর্ভাগ্যজনকভাবে পাকিস্তানে ভেঙে পড়েছিল এবং তিনি প্যারাশুটে করে পাকিস্তানে নামলে পাক সেনাবাহিনী তাঁকে আটক করে। তাঁর মতে, পাকিস্তানের মিসাইলের কারণেই সে বার আমাদের আঘাত সইতে হয়েছিল। ওই সময়ে যদি আমাদের হাতে রাফাল এবং অত্যাধুনিক মিসাইলের কম্বিনেশন থাকত, তাহলে আমাদের আরও অনেক বেশি সুবিধা হতো।
প্রাক্তন কর্তা আরও বলেন যে, আগের বারের মতো এ বারেও লাইন অফ কন্ট্রোল (LoC) বা নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি ঘাঁটিগুলিতে কোথায় কোথায় সম্ভাব্য আঘাত হানা হবে, তা আগে থেকে সুনির্দিষ্টভাবে ঠিক করে এগোতে হবে। তিনি মনে করেন, যুদ্ধ হলে তা মহাভারতের মতোই হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ইয়ে দেশ (পাকিস্তান) শুধরেগা নহি’, এটা নিশ্চিত। এদের মানসিকতা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তাই এদের উচিত শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবরোধের পাশাপাশি সামরিক প্রত্যাঘাতের প্রয়োজনীয়তাও অনস্বীকার্য। ভারত সরকার কী করবে, সেটা সরকারের শীর্ষ স্তরের সিদ্ধান্ত, তবে দ্রুত ও সময়োচিত প্রত্যাঘাতের প্রয়োজনীয়তা তিনি আবারও স্বীকার করেন।
এরপরই তিনি একটি প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন যে, ভারতের হাতে রাফালের ৫-৬টি স্কোয়াড্রন নেই কেন, মাত্র ৩৬টি রাফাল রয়েছে দেশে? তাঁর কিছুটা আক্ষেপের সুরে বলেন, আসলে আমরা বোধহয় কোনও দিনই পূর্ণ শক্তিধর হতে চাই না, তাই ৩৬টি রাফাল নিয়েই আমাদের সন্তুষ্ট থাকতে হয়। এর জায়গায় ১২৬টি রাফাল হাতে থাকলে অনেক ভালো হতো, এটা সহজ সত্য। তিনি বলেন, এই বিষয়টা নিয়ে একজন প্রাক্তন বায়ুসেনা অফিসার হিসেবে তাঁর কিছু বলা হয়তো ঠিক নয়, কারণ এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। তবুও এটা বলতে হচ্ছে, রাফালের সংখ্যা আরও বেশি হলে সম্ভাব্য প্রত্যাঘাতে আমরা আরও বেশি সুবিধাজনক জায়গায় থাকতে পারতাম।
সব মিলিয়ে, পহেলগাঁও হামলার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক প্রত্যাঘাতের আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্তার রাফাল ব্যবহারের পরামর্শ এবং দেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।