‘স্টুডেন্ট ভিসায়’ পাকিস্তান ফেরত সন্দেহভাজন জঙ্গি, আদিলকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর গোয়েন্দা তথ্য !

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে নিরীহ পর্যটকদের উপর ভয়াবহ জঙ্গি হানায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর তদন্ত দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে ৪ জন জঙ্গির ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের পরিচয় সামনে এসেছে – সে কাশ্মীরেরই বাসিন্দা, নাম আদিল। আর এই আদিলকে নিয়েই গোয়েন্দা সূত্রে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা এই হামলার নেপথ্যে পাকিস্তানের যোগসাজশকে আরও জোরালো করছে।
গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে আদিল নাকি ‘স্টুডেন্ট ভিসা’ নিয়ে পাকিস্তানে গিয়েছিল। আপাতদৃষ্টিতে পড়াশোনার নাম করে দেশ ছাড়লেও তার মনে নাকি আগে থেকেই ‘জঙ্গি মনোভাব’ ছিল। ২০১৮ সালে পাকিস্তান যাওয়ার পর প্রায় ৬ বছর সে সেখানেই ছিল। প্রাথমিক ৬ মাস পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও ধীরে ধীরে সেই যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। প্রায় ৮ মাস পরিবারের কাছে তার কোনও খবরই ছিল না, যা তার জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সময়ের ইঙ্গিত দেয়।
অনুমান করা হচ্ছে, পাকিস্তানে থাকাকালীনই আদিল জঙ্গি সংগঠনের সংস্পর্শে আসে, সেখানে কঠোর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এবং সংগঠনের বিভিন্ন কাজে যুক্ত হয়। দীর্ঘ ৬ বছর পাকিস্তানে কাটানোর পর ২০২৪ সালে আদিল একা ভূ-স্বর্গে ফেরেনি। গোয়েন্দারা মনে করছেন, তার সঙ্গে আরও অন্তত ৪-৫ জন প্রশিক্ষিত জঙ্গি ফিরে এসেছিল।
গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, আদিলের সঙ্গে ফেরা এই ৪-৫ জনই পহেলগামের নারকীয় হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এদের মধ্যে একজন পাকিস্তানি নাগরিকও ছিল, যার নাম হাশিম মুশা। মনে করা হচ্ছে, হাশিম মুশাও এই হত্যাকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল। আদিলের সঙ্গে ফেরা এই জঙ্গিরা লস্কর-ই-তইবার ছায়া সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্ট ফ্রন্ট (টিআরএফ)-এর সদস্য হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হলেও, অন্য সূত্রের খবর অনুযায়ী এরা হয়তো পাকিস্তানের কোনও অন্য জঙ্গি সংগঠনের লোক। কারণ, আদিলের দেশ ছাড়ার আগেই তার মধ্যে জঙ্গি মনোভাব দেখা গিয়েছিল।
পহেলগাঁও হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ঘটনার পর মূল অভিযুক্ত লস্কর-ই-তইবার জঙ্গি আসিফ শেখ ও আদিল হুসেন ঠোকার সহ আরও তিন লস্কর জঙ্গির বাড়ি ইতিমধ্যেই গুঁড়িয়ে দিয়েছে সেনা। এই ৫ জনই পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে যুক্ত বলে অনুমান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জঙ্গিদের সাহায্য করার অভিযোগে কুলগামের কাইমো এলাকার ঠোকরপোরা থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। সেনার তরফে জানানো হয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য শুধু জঙ্গিদের বাড়ি ধ্বংস করা নয়, তাদের জীবিত অথবা মৃত গ্রেফতার করা। সেই লক্ষ্যে উপত্যকা জুড়ে জোরদার অভিযান চলছে। আদিলের পাকিস্তান সফর এবং ফিরে এসে জঙ্গি হামলায় জড়িত থাকার ঘটনা উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদের এক নতুন ও উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে।