স্বস্তির খবর! বিকেল থেকে আবহাওয়ার পরিবর্তন, বৃষ্টিতে ভিজবে কোন কোন জেলা? জানুন

দীর্ঘদিন ধরে চলা তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি থেকে অবশেষে স্বস্তির খবর শোনাল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আগামী এক সপ্তাহ পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে তীব্র গরম বা তাপপ্রবাহের তেমন কোনও পূর্বাভাস নেই। বরং রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ, সব জেলাতেই রয়েছে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা, যা তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করবে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা সোমনাথ দত্ত জানিয়েছেন, শনিবার পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা গরম ও শুষ্ক হাওয়ার কারণে দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় দিনের বেলায় কিছুটা তাপপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে বিকেলের পর থেকেই আবহাওয়ার পরিবর্তন শুরু হবে এবং দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি ঝড়বৃষ্টি হতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার চিত্র:
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় 36 ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা 29 ডিগ্রির কাছাকাছি থাকতে পারে। আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে এবং বাতাসে আর্দ্রতার কারণে অস্বস্তি অনুভূত হবে।
শনিবার পশ্চিম বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং বাঁকুড়ার জন্য তাপপ্রবাহের কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই জেলাগুলিতে দিনের পাশাপাশি রাতেও তাপমাত্রা বেশি থাকার সম্ভাবনা। পুরুলিয়া এবং বীরভূমেও তাপপ্রবাহ হতে পারে। তবে, দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে সরাসরি তাপপ্রবাহ না থাকলেও গরমের অস্বস্তি বজায় থাকবে। এদিন দক্ষিণ 24 পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
রবিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তন আসবে। কলকাতা সহ প্রায় সমস্ত জেলাতেই বৃষ্টি শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৃষ্টির হাত ধরে দিনের তাপমাত্রা অনেকটাই কমবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। কলকাতা শহরে রবিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত ঝড়বৃষ্টির বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই দুদিন কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত এবং ঘণ্টায় 40 থেকে 50 কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ 24 পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়াতেও একইরকম বৃষ্টি ও 40 থেকে 50 কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের অবশিষ্ট জেলাগুলিতে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় 50 থেকে 60 কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
গত বছরের এই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে এবারের এপ্রিল মাস অনেকটাই সহনীয় বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা। গত বছর ঠিক এই সময়ে দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলা টানা 16 দিন ধরে তাপপ্রবাহে পুড়েছিল, যা ছিল গত পঞ্চাশ বছরের রেকর্ড।
উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ার চিত্র:
উত্তরবঙ্গে আপাতত বৃষ্টির পরিস্থিতি বজায় থাকবে। রবিবার পর্যন্ত দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার সহ সবকটি জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময় বাতাসের গতি থাকতে পারে ঘণ্টায় 30 থেকে 40 কিলোমিটার। তবে, মালদা জেলায় ঝড়বৃষ্টির পাশাপাশি তাপপ্রবাহের মতো পরিস্থিতিও তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার থেকে সিকিমে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়েছে, যার কারণে উত্তর সিকিমের একাধিক রাস্তায় ধস নেমেছে এবং পর্যটকদের জন্য এলাকাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, শুক্রবার কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল 35.6 ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে 0.3 ডিগ্রি কম এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল 28.8 ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে 2.6 ডিগ্রি বেশি। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল যথাক্রমে সর্বোচ্চ 86 শতাংশ এবং সর্বনিম্ন 65 শতাংশ।