‌”মাথায় ক্যামেরা, বাবাকে খুনের পর সেলফি তুলছিল হামলাকারীরা”-জঙ্গিদেড় বর্ণনা দিলেন শোকে কাতর ছেলে

কাশ্মীরের পহেলগামে গত মঙ্গলবার ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় মধ্যপ্রদেশের ৫৮ বছর বয়সী সুশীল নাথানিয়েল প্রাণ হারিয়েছেন। সপরিবারে কাশ্মীর ঘুরতে গিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু সেই ভ্রমণই তার জীবনের শেষ যাত্রায় পরিণত হলো। চোখের সামনে বাবাকে নৃশংসভাবে খুন হতে দেখেছেন তার ছেলে অস্টিন ওরফে গোল্ডি। হামলার পর সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন তিনি।

অস্টিন জানান, যারা তার বাবাকে হত্যা করেছে, তাদের বয়স খুব বেশি নয়, ১৫ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। হামলাকারীদের প্রত্যেকের মাথায় ক্যামেরা বসানো ছিল এবং তারা এতটাই নির্বিকার ছিল যে হত্যাকাণ্ডের পর সেলফিও তুলছিল। এই দৃশ্য দেখে তিনি শিউরে উঠেছেন।

হামলার দিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অস্টিন বলেন, জঙ্গিরা পর্যটকদের ধর্মীয় পরিচয় জিজ্ঞাসা করছিল এবং যারা ইসলাম ধর্মের নয়, তাদের ওপর গুলি চালাচ্ছিল। তার বাবা হিন্দু জানার পরই তাকে গুলি করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে পালানোর সময় তার বোন আকাঙ্ক্ষার পায়ে গুলি লাগে, তবে তিনি এবং তার মা অক্ষত অবস্থায় সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।

অস্টিন বলেন, “ওই জায়গাটা পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়। সেখানে আরও বেশি করে পুলিশ এবং সেনা মোতায়েন করা হোক। আমি এটাই চাই। কারণ ওখানে প্রচুর মানুষ ঘুরতে যান, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”

গত ২২ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকেলে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামের বৈসরণ তৃণভূমিতে পর্যটকদের উপর এই হামলা চালানো হয়। কাশ্মীরভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই তৈয়বার উপশাখা দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। স্বয়ংক্রিয় রাইফেল হাতে জঙ্গিরা অন্তত ২৬ জন পর্যটককে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে এবং আরও বেশ কয়েকজনকে আহত করে। নিহতদের সবাই পুরুষ ছিলেন। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর জম্মু ও কাশ্মীরে এটি ছিল সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলা।

এই ভয়াবহ হামলার জন্য ভারত সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করেছে এবং এর প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে পাকিস্তানের সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত করা সহ একাধিক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ভারতের এই পদক্ষেপের পাল্টা হিসেবে পাকিস্তানও ভারতের জন্য নিজেদের স্থল ও আকাশসীমা বন্ধ করা সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এই ঘটনা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি করেছে।