“ওরা মানুষ নয়, ওরা রাক্ষস!” পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলায় বাবা-কাকাকে হারিয়ে বললেন আশাবরী

জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরণে গত ২২ এপ্রিল ঘটে যাওয়া বর্বর জঙ্গি হামলায় বাবা সন্তোষ জগদালে এবং কাকা কৌস্তুভ গানবোটে-কে হারিয়েছেন আশাবরী জগদালে। সংবাদমাধ্যমের কাছে সেই ভয়াবহ রাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে রীতিমতো কান্নায় ভেঙে পড়েন সন্তোষের ২৬ বছর বয়সী এই কন্যা। ঘাতকদের উদ্দেশে তাঁর কণ্ঠে ঝরে পড়ে তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণা, “ওরা মানুষ নয়, ওরা রাক্ষস।”

সেদিনের ওই ভয়াবহ হামলার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন আশাবরী নিজেও। ২৬ জন পর্যটকের প্রাণ কেড়ে নেওয়া ওই ঘটনায় জঙ্গিরা বেছে বেছে পুরুষদের আলাদা করে তাঁদের ধর্মীয় পরিচয় জানার পর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল।

সংবাদমাধ্যমকে আশাবরী জানান, হামলার আগে তাঁরা বৈসরণ উপত্যকার মনোরম ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামের জায়গায় ছবি তুলতে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ গুলির শব্দ শুনতে পান। প্রথমে কাছে থাকা কিছু স্থানীয়ের কাছে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা জানান, বাঘকে ভয় দেখানোর জন্য হয়তো কেউ গুলি চালিয়েছে। কিন্তু খুব দ্রুতই সেই বিভ্রম কাটে।

আশাবরী বলেন, “কিন্তু তার পরেই আসল ঘটনা চোখের সামনে ঘটতে শুরু করল। একের পর এক মানুষকে গুলি করতে শুরু করল ওরা।” তিনি আরও জানান, তিনি দেখেছিলেন জঙ্গিরা কিছু মানুষকে ‘কলমা’ পাঠ করতে বলছে এবং যারা তা করছিল, তাদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছিল।

এরপরই তিনি তাঁর বাবার উপর চালানো নৃশংস অত্যাচারের বর্ণনা দেন। তাঁর কথায়, “মোটামুটি ২০ বছর বয়সী এক জঙ্গি আমার বাবার সামনে এসে তাঁকে উঠে দাঁড়াতে বলে। বাবা আমাদের ক্ষতি না করার জন্য তাকে কাকুতি-মিনতি করে অনুরোধ করেন।” বাবার কাতর অনুরোধেও ঘাতকের মন গলেনি। উল্টে ঠান্ডা গলায় সেই জঙ্গি বলে, সে তাঁদের দেখাবে “কীভাবে খুন করতে হয়।” এরপর খুব কাছ থেকে তাঁর বাবাকে লক্ষ্য করে তিনটি গুলি ছোঁড়ে সে। আশাবরী জানান, এর মধ্যে একটি গুলি তাঁর বাবার মাথায় লাগে, আরেকটি কান ভেদ করে বেরিয়ে যায় এবং শেষেরটি সোজা বুকে গিয়ে বিদ্ধ হয়।

বাবার পাশাপাশি কাকা কৌস্তুভ গানবোটেকেও একই ভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছেন আশাবরী। তাঁর কাকাকে মাথার পিছনে গুলি করা হয়েছিল, যা তাঁর চোখ ভেদ করে বেরিয়ে যায়। এই মর্মান্তিক দৃশ্যগুলির পর একে একে অন্য পুরুষদেরও গুলি করা হয় বলে জানান আশাবরী। স্রেফ ঘুরতে যাওয়া একটি আনন্দময় দিন যে নিমেষে এক রক্তাক্ত দুঃস্বপ্নে পরিনত হবে, ২৬ বছর বয়সী এই তরুণী তা কখনও কল্পনাও করতে পারেননি।