“অষ্টভূজা শক্তি দ্বারা অসুরের নাশ হবে”-পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা নিয়ে মন্তব্য মোহন ভাগবতের

কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে নিরীহ পর্যটকদের উপর বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাকে ‘ধর্ম ও অধর্মের মধ্যে লড়াই’ বলে অবিহিত করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত। মুম্বাইয়ে পণ্ডিত দীনানাথ মঙ্গেশকরের ৮৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মোহন ভাগবত বলেন, “এটি ধর্ম ও অধর্মের মধ্যে লড়াই। যারা নিহত হয়েছিল তাদের প্রথমে তাদের ধর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। একজন হিন্দু কখনও এটি করবে না কারণ সে ধৈর্যশীল।” তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান যে ভারতকে এতটাই শক্তিশালী হতে হবে যাতে এই ধরনের ‘রাক্ষসদের’ ধ্বংস করা যায়। তিনি বলেন, “দেশকে শক্তিশালী করতে হবে। আমাদের আট-বাহু শক্তি দ্বারা রাক্ষসদের ধ্বংস করতে হবে।”
পহেলগাঁওয়ের ঘটনায় ধর্মের ভিত্তিতে ২৬ জনকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এই প্রেক্ষাপটেই আরএসএস প্রধানের এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
নীরবতা বিপজ্জনক: সুনীল আম্বেদকর
এদিকে, আরএসএসের প্রচার প্রমুখ সুনীল আম্বেদকরও দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে পহেলগাঁও হামলাকে দুর্ভাগ্যজনক আক্রমণ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এই ঘৃণ্য কাজের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আম্বেদকর বলেন, “এটি একটি দুর্ভাগ্যজনক আক্রমণ। আমি নিশ্চিত যে এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এর পাশাপাশি, সুনীল আম্বেদকর রাজনীতি এবং জনমতের নামে কিছু এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “যদি কিছু লোক ম্যান্ডেটের নামে তাদের এজেন্ডা চাপিয়ে দেয়, তবে তা একনায়কতন্ত্র।” যারা সততার সঙ্গে রাজনীতি করতে চান, তাদের সত্য কথা বলা উচিত এবং জনমত তৈরি করা দরকার বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। আম্বেদকর সতর্ক করে বলেন, “যদি অনুসারীরা চুপ থাকে এবং বলে যে আমাদের নেতারা কথা বলবেন, তাহলে এটি একটি নীরব সম্মতিতে পরিণত হয়, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।” তার এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
পহেলগাঁওয়ের সন্ত্রাসী হামলার পর আরএসএস নেতৃত্ব থেকে আসা এই কড়া প্রতিক্রিয়া এবং মন্তব্য বর্তমান পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।