পহেলগাঁওয়ে হামলা খবর কখন পেয়েছিলো পুলিশ স্টেশন? জঙ্গিরাই বা ধরা পড়েনি কেন? FIR-এ মিলল তথ্য

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈশরণ উপত্যকায় গত মঙ্গলবার ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় দায়ের করা প্রাথমিক অভিযোগপত্রে (FIR) চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এফআইআর অনুযায়ী, এই হামলা কোনও আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপার থেকে সক্রিয় হ্যান্ডলারদের সরাসরি নির্দেশে জঙ্গিরা এই হামলা চালিয়েছিল।

এফআইআরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) দুপুর দেড়টা থেকে ২টা ২০ মিনিটের মধ্যে এই নারকীয় ঘটনা ঘটে। সামরিক পোশাকে সজ্জিত সন্ত্রাসীরা বৈশরণ উপত্যকার সীমান্তবর্তী ঘন পাইন জঙ্গল থেকে হঠাৎ বেরিয়ে এসে নিরীহ পর্যটকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। সেই সময় বহু পর্যটক বৈশরণের মনোরম পরিবেশে ঘোড়ায় চড়ছিলেন বা সবুজ ঘাসের ওপর বসে পিকনিক উপভোগ করছিলেন। হঠাৎ গুলির শব্দ ও চিৎকারে পুরো এলাকা আতঙ্কিত হয়ে ওঠে এবং মাত্র ৩০ মিনিট ধরে চলা এই গুলিবর্ষণে অন্তত ২৬ জন পর্যটক নিহত হন। হামলাকারীরা অবৈধভাবে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহার করেছিল বলে এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিউজ ১৮-এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, পুলিশ স্টেশন দুপুর আড়াইটা নাগাদ এই হামলার খবর পায়। খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দিলেও, বৈশরণ পর্যন্ত যানবাহন চলাচলের উপযোগী কোনও সড়ক না থাকায় সেখানে পৌঁছতে তাদের বেশ কিছুটা সময় লেগে যায়। এর মধ্যেই হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

এফআইআরে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, পুলিশ স্টেশন বিশ্বস্ত সূত্রে তথ্য পেয়েছে যে এই অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীরা সীমান্তের ওপারে অবস্থিত তাদের হ্যান্ডলারদের নির্দেশেই পহেলগাঁওয়ের বৈশরণে এই হামলা চালায়। অবৈধ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহার করে চালানো এই হামলা ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত সন্ত্রাসী কার্যকলাপ। এফআইআরে আরও বলা হয়েছে যে, এই হামলার মূল উদ্দেশ্য কেবল প্রাণহানি ঘটানোই ছিল না, বরং এর মাধ্যমে উপত্যকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়াও ছিল জঙ্গিদের লক্ষ্য।

এই ঘৃণ্য হামলার ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১১, ১০৩ এবং ১০৯ ধারা সহ বেশ কয়েকটি কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও, বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (UAPA)-এর ১৬, ১৮ এবং ২০ ধারা এবং অস্ত্র আইনের ৭ ও ২৭ ধারাও এফআইআরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই গুরুতর ধারাগুলোতে মামলা রুজু করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা।