ফের সংকটে কাশ্মীর! পহেলগাঁও থেকে ৬০ কিমি দূরে চলছে গুলির লড়াই

জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার পহেলগাঁওয়ে নিরীহ পর্যটকদের ওপর বর্বরোচিত হামলার পর ভারত সরকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নয়া দিল্লিতে যখন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চলছিল, তখনই পহেলগাঁও থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে কুলগাম জেলার তাংমার্গ এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী এবং জঙ্গিদের মধ্যে তীব্র গুলির লড়াই শুরু হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় জঙ্গিদের গুলিতে ২৬ জন নিরস্ত্র পর্যটকের মৃত্যু হয়। এই হামলার দায় স্বীকার করে নেয় ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ)। এই ঘটনার পর শোকস্তব্ধ গোটা দেশ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো জঙ্গিকে রেয়াত করা হবে না এবং কঠোর হাতে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করা হবে।
এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কুলগামের তাংমার্গে জঙ্গিবিরোধী অভিযান শুরু হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই এলাকায় কয়েকজনের সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করার পর নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। জঙ্গিরা গুলি চালালে শুরু হয় এনকাউন্টার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাংমার্গে আরও অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, অনন্তনাগ থেকে কুলগামের তাংমার্গের সংঘর্ষস্থলের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার এবং সোপিয়ানের দূরত্বও প্রায় একই। এই এলাকা নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছাকাছি, এবং গোয়েন্দা সূত্রে খবর, নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারেই লস্কর-ই-তৈবার কয়েকটি লঞ্চ প্যাড রয়েছে, যা অনুপ্রবেশের জন্য ব্যবহৃত হয়। পহেলগাঁও হামলার পর কুলগামে এই এনকাউন্টার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সক্রিয়তারই প্রমাণ।