অক্ষয় তৃতীয়ায় দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন, ভিড় সামলাতে নিয়োগ করা হচ্ছে ১০০ জন সিভিক ভলান্টিয়ার

আর কদিন বাদেই অক্ষয় তৃতীয়া, আর সেই পবিত্র দিনেই দিঘার বুকে ইতিহাসের সাক্ষী হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন। এই মেগা ইভেন্টকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সাজ সাজ রব দিঘা জুড়ে। বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের সমাগম হবে বলে আগেভাগেই আঁচ করেছে রাজ্য প্রশাসন। এই বিশাল ভিড় এবং সুচারুভাবে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে রাজ্য মন্ত্রিসভা ১০০ জন সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে। বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাবটিতে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়।

জানা গেছে, আজ ২৩ এপ্রিল যজ্ঞ এবং আগামী ৩০ এপ্রিল মন্দিরের মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এই দুটি দিনকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকার আঁটোসাঁটো নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছে। নবান্ন সূত্রে খবর, স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই গোটা অনুষ্ঠানের তদারকি করছেন এবং এর রূপরেখা তৈরি করছেন। সম্প্রতি এক প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই অনুষ্ঠান রাজ্যের তো বটেই, দেশের জন্যও এক গর্বের মাইলফলক হতে চলেছে। তাই শৃঙ্খলা বা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কোনো রকম ত্রুটি রাখা চলবে না।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি সহ পাঁচ জন মন্ত্রী কয়েক দিন আগে থেকেই দিঘায় উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও বহু বিশিষ্ট শিল্পপতিও এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়েছেন। ভিআইপি চলাচল নিয়ন্ত্রণ, সুষ্ঠু যানবাহন পার্কিং ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের ভিড় সামলানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলি মূলত নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত এই সিভিক ভলান্টিয়াররাই পালন করবেন। তাদের মূল কাজ হবে অনুষ্ঠানস্থলে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক নির্দেশাবলী মেনে চলা। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্য থেকেই এই ১০০ জন সিভিক ভলান্টিয়ারকে বেছে নেওয়া হবে।

তবে এই সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়োগ শুধুমাত্র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সাময়িক, নাকি জগন্নাথ মন্দিরকে ঘিরে দিঘায় ভবিষ্যতের নিয়মিত পর্যটকদের ভিড় সামলানোর জন্যও তাদের রাখা হবে, সে বিষয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। কিন্তু নবান্ন থেকে জানানো হয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রী চান না এই উদ্বোধনকে ঘিরে অযাচিত উন্মাদনা তৈরি হোক। বরং, নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খলভাবে যাতে গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তার উপরেই সর্বাধিক জোর দেওয়া হচ্ছে।

রাজ্য সরকারের এক শীর্ষ আধিকারিক এই প্রসঙ্গে বলেছেন, “এই সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ আসলে মুখ্যমন্ত্রীর একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। শুধু অনুষ্ঠান নয়, ভবিষ্যতে জগন্নাথধামকে কেন্দ্র করে দিঘা যে নতুন রূপে সজ্জিত হবে, তার পরিকাঠামো গড়ে তোলারই এটি একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ।”

দিঘার এই ঐতিহাসিক জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং পরিকাঠামো— সব দিক থেকেই রাজ্য প্রশাসন এক বহুমুখী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ওই আধিকারিকের মতে, যথাযথ পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এই মেগা ইভেন্টকে সফল করে তোলার সব রকম চেষ্টা করা হচ্ছে।