“এক ঘরে একাধিক ক্লাসের পঠনপাঠন”-শিক্ষক ও পড়ুয়া থাকলেও স্কুলের পড়াশোনা উঠছে শিকেয়?

শিক্ষক বা পড়ুয়ার অভাব—প্রাথমিক স্কুলগুলির ক্ষেত্রে এমন সমস্যা প্রায়ই সামনে আসে। কিন্তু জলপাইগুড়ি পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডে একটি স্কুলে শিক্ষক এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক পড়ুয়া থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র পরিকাঠামোর অভাবে পড়াশোনা শিকেয় উঠছে। একটি মাত্র ঘর নিয়ে স্কুল চালাতে গিয়ে নাজেহাল হতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
জলপাইগুড়ি পুর এলাকার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের পান্ডাপাড়া টিউমল রোডের সোনালি আরবান জেআর বেসিক স্কুলে দেখা গেছে এই বেহাল চিত্র। এটি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় যেখানে প্রাক প্রাথমিক থেকে শুরু করে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের পড়ানো হয়। স্কুলের প্রধান সমস্যা হলো এখানে ক্লাস করার জন্য একটাই মাত্র ঘর রয়েছে। সেই একটি ঘরেই একসঙ্গে বসিয়ে বিভিন্ন শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের পড়ানো হয়। এখানেই শেষ নয়, এই ঘরেরই একাংশ ব্যবহার করতে হয় মিড-ডে মিলের চাল থেকে শুরু করে রান্নার বাসনপত্র এবং অন্যান্য সরঞ্জাম রাখার জন্য। এটি শিক্ষিকাদের কমন রুম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
মিড-ডে মিলের জন্য আলাদা করে কোনও রান্নাঘর তৈরি করে দেওয়া হয়নি। ফলে স্কুলের বারান্দার এক প্রান্তে রান্নাবান্নার কাজ চলে। এতে শিক্ষিকা ও পড়ুয়াদের সমস্যা হয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা হয় বর্ষাকালে, যখন বৃষ্টিতে বাইরে রান্না করা বা খাওয়া সম্ভব হয় না। সেই সময় পড়ুয়াদের মিড-ডে মিলের খাওয়াদাওয়া ওই একই ক্লাসরুমের মধ্যেই সারতে হয়, যা ভিড়ের সৃষ্টি করে।
এই স্কুলটির ঠিক পাশেই রয়েছে সোনালি গালর্স উচ্চ বিদ্যালয়। সাধারণত সোনালি আরবানে চতুর্থ শ্রেণিতে পাশ করে ছাত্রীরা হাই স্কুলে ভর্তি হয়। জেলার অন্য অনেক স্কুল যখন পড়ুয়ার অভাবে ধুঁকছে, সেখানে জয়ন্তীপাড়া, টিউমল রোড, স্টেশন এলাকার প্রায় ২৫ জন ছেলেমেয়ে এই স্কুলে আসে। অর্থাৎ, এই স্কুলে পড়ুয়ার অভাব তেমন নেই। কিন্তু একটি মাত্র ঘরে বিভিন্ন ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের একসঙ্গে বসানোর ফলে পড়াতেও শিক্ষকদের অসুবিধা হয়। প্রধান শিক্ষিকা জানিয়েছেন, মোট ছাত্রছাত্রীর ৬০ শতাংশও যদি কোনও দিন স্কুলে উপস্থিত হয়, তাহলে তাদের বসানোর মতো পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না।
স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা পুষ্পিতা রায় জানান, তিনি কয়েক মাস আগেই এই স্কুলে এসেছেন। এই ঘরের সমস্যাটি নতুন নয়। আগের প্রধান শিক্ষিকাও একাধিকবার প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শকের দপ্তরকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত পরিকাঠামো উন্নয়নে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। স্কুলের এক ছাত্রীর অভিভাবক বিশ্বদীপ রাউত বলেন, ‘স্কুলে পড়াশোনা ভালো হয়, শিক্ষিকারা যত্ন নিয়ে পড়ান। কিন্তু সমস্যা একটাই, এখানে একটাই মাত্র ঘর। সব ক্লাসের ছাত্রছাত্রীকে এই ঘরে বসিয়ে ক্লাস নেওয়া হয়, এতে সবার অসুবিধা হয়।’
এই বিষয় নিয়ে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক শ্যামলচন্দ্র রায় বলেন, ‘আমি নিজে গিয়ে ওই স্কুল পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেব।’
শিক্ষক, পড়ুয়া ও শিক্ষিকাদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ন্যূনতম পরিকাঠামোর অভাবে জলপাইগুড়ির এই স্কুলটির পঠন-পাঠন ব্যাহত হচ্ছে। জেলা পরিদর্শকের আশ্বাস কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেটাই এখন দেখার।