“এমন কিছু করবেন না যাতে রিভিউ পিটিশন বিপক্ষে যায়”, ধৈয্য ধরে থাকার বার্তা শিক্ষামন্ত্রীর !

যোগ্য অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ নিয়ে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে সোমবার রাত থেকে সল্টলেকের আচার্য সদন, অর্থাৎ এসএসসি (SSC) ভবনের সামনে যে ঘেরাও এবং অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেছিলেন চাকরিহারারা, মঙ্গলবার সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও তা অব্যাহত রয়েছে। নিজেদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ জারি থাকবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
সোমবার রাতে এসএসসি ভবনের ভেতরে আটকে পড়া চেয়ারম্যান সহ অন্যান্য কর্তাদের জন্য বাইরে থেকে খাবার ভিতরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে বিক্ষোভকারীরা বাধা দেন এবং খাবার রাস্তায় ফেলে নষ্ট করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সকালেও একইভাবে তাঁদের জন্য চা নিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষক-শিক্ষিকারা। অভুক্ত অবস্থাতেই গোটা রাত রাস্তায় কাটিয়েছেন তাঁরা। এমনকি শৌচালয়ের মতো প্রাথমিক প্রয়োজনীয়তাটুকুও মেটানো হয়নি তাঁদের জন্য, যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা। রাত বাড়তেই ওই চত্বরের আলিপুরদুয়ার ভবন, বালুরঘাট ভবন সহ সমস্ত সরকারি ভবনগুলিতে তালা মেরে দেওয়া হয়। এমনকি করুণাময়ীতে থাকা পে অ্যান্ড ইউজ টয়লেটও বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
চাকরিহারাদের এই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন জুনিয়র চিকিৎসকরাও। তাঁরা আন্দোলনকারীদের জন্য জলসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ করেছেন।
এই আবহেই, মঙ্গলবার দুপুরে চাকরিহারাদের উদ্দেশে একটি বার্তা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি বলেন, “আমরা দ্রুত রিভিউ পিটিশনে যাব। আইনি প্রক্রিয়া এখনও চালু আছে। কিন্তু এখন এমন কিছু করা উচিত নয়, যাতে রিভিউ পিটিশন দুর্বল হয় বা আদালত অবমাননা হয়।” বেতন নিয়ে তাঁদের দফতর কাজ করছে জানিয়ে তিনি আন্দোলনকারীদের বলেন, “আপনারা আপনাদের কাজ করুন, আমাদের কাজ আমাদের করতে দিন। আন্দোলন করুন, কিন্তু কারও জীবন যাতে বিপন্ন না হয় সেটাও মাথায় রাখতে হবে।” তিনি আলোচনা ও কাজে বিশ্বাসী বলেও মন্তব্য করেন এবং জানান পুলিশও বোঝানোর চেষ্টা করছে। এর কিছুক্ষণ আগে এক সাংবাদিক সম্মেলনেও শিক্ষামন্ত্রী চাকরিহারাদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন এবং জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাকরিহারাদের পাশে আছেন ও তাঁদের স্বার্থ সুরক্ষিত করতেই শিক্ষা দফতর কাজ করছে।
রাস্তায় রাত কাটানো, খাবার ও শৌচালয়ের মতো ন্যূনতম সুবিধার অভাব – সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছেন চাকরিহারা শিক্ষকরা। এসএসসি ভবনের সামনে তাঁদের ঘেরাও এবং অবস্থান বিক্ষোভ আজও জারি রয়েছে।