“উনি মক্ষীরানি, এই রানি মৌমাছিকে আগে জেলে ভরা উচিত”-ফের সুকান্তের নিশানায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অত্যন্ত কড়া এবং বিতর্কিত ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। নিয়োগ দুর্নীতি সহ একাধিক ইস্যুতে মমতাকে ‘মক্ষীরানি’ আখ্যা দিয়ে তাঁকে জেলে ভরার দাবি তুলেছেন তিনি। এমনকি মুর্শিদাবাদে গেলে মহিলারা তাঁকে ঝাঁটাপেটা করবে বলেও মন্তব্য করেছেন সুকান্ত। তাঁর এই মন্তব্যের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার নদিয়ার বেথুয়া ডহরিতে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে ‘চায়ে পে চর্চা’-য় যোগ দেন সুকান্ত মজুমদার। সেখানে চা খেতে খেতে তিনি দলের সংগঠনিক বিষয়ে কর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি রাজ্যের শাসকদল ও মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করেন।

চাকরি বাতিল নিয়ে তাঁর দলের অবস্থান স্পষ্ট করে সুকান্ত বলেন, “বিজেপির অবস্থান প্রথম থেকে স্পষ্ট। আমরা প্রথম থেকেই বলেছি যোগ্যকে চাকরি দিতে হবে আর অযোগ্যদের বাদ দিতে হবে।” তিনি এসএসসি-র যোগ্য-অযোগ্য তালিকা প্রকাশ না হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। সুকান্ত বলেন, “প্রশ্ন হচ্ছে যোগ্য ও অযোগ্যদের লিস্ট দেওয়া হবে বলে এতদিন অপেক্ষা করার পর আজকে শোনা যাচ্ছিল নাকি ৬-টার সময় লিস্ট বেরোবে। কিন্তু সেই লিস্ট আর বেরোল না। প্রশ্ন হচ্ছে সেই লিস্ট গেল কোথায়। নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই এসএসসি লিস্ট বের করা বন্ধ করে দিয়েছে?”

এই প্রসঙ্গের সূত্রেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন। সুকান্ত বলেন, “…আমি সেই জন্য বলছি যোগ্যদের চাকরি থাকবে অযোগ্যদের চাকরি চলে যাবে। কিন্তু এর থেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কেন এত বড় ঝামেলা হল, এত বড় দুর্নীতি কে করল? যে মক্ষীরানি, রানি মৌমাছি এই দুর্নীতি করেছে তাঁকে জেলের ভিতরে সবার আগে ঢোকাতে হবে। তাঁকে জেলে ঢোকালে সমাধান হয়ে যাবে।” তিনি আরও বলেন, সমস্যা সমাধান না হলে “বিজেপি সরকার এলেই আমরা যোগ্য অযোগ্য বের করে দেব।”

শুধু নিয়োগ দুর্নীতি নয়, রাজ্যের শিল্প ও উন্নয়ন নিয়েও মমতাকে কটাক্ষ করেন সুকান্ত। তিনি বলেন, “এর আগে বহু শিলান্যাস হয়েছে। সেই কারণেই মমতার নাম হয়েছে শিলা দিদি। সব জায়গায় উনি শিলান্যাস করে বেড়ান।”

উল্লেখ্য, সুকান্ত মজুমদারের এই মন্তব্যের সময় মঙ্গলবার সকালেও সল্টলেকে এসএসসি ভবনের সামনে চাকরিহারা শিক্ষক শিক্ষকদের ধর্না অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অফিসের সামনে আন্দোলন, অনশনে বসে রয়েছেন চাকরিহারা গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি শিক্ষাকর্মীরা। দিনভর আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, নিয়োগ দুর্নীতি সহ একাধিক ইস্যুতে তৃণমূল সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি কার্যত রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিলেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।