SSC-দফতর ঘেরাওয়ে অনড় চাকরিহারা; চরম উত্তেজনায় সল্টলেক

যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি না পাওয়া ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীরা তাঁদের দাবিতে অনড়। সোমবার এসএসসি (SSC) দফতর ঘেরাও করে রাতভর অবস্থানের পর মঙ্গলবার সকালেও সল্টলেকের আচার্য সদনের সামনে তাঁদের বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনকারীদের সাফ কথা, “যতদিন না আমাদের দাবি পূরণ হচ্ছে ততক্ষণ SSC অপিস ঘিরে রাখব।”
আন্দোলনের তীব্রতা বোঝাতে গিয়ে একজন চাকরিহারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন, “ওঁরা (চেয়ারম্যান ও আধিকারিকরা) বসে বসে বিরিয়ানি খাবেন, চা-বিস্কুট খাবেন? আমাদের পেটে খিদে নেই? আমরা ছেড়ে দেব না। এর শেষ দেখে ছাড়বই। কমিশন, পর্ষদ – কাউকে ছেড়ে কথা বলব না। প্রয়োজনে আগুন জ্বলে যাব!” গতকাল রাতটা খোলা আকাশের নীচে রাজপথেই কাটাতে হয়েছে এই আন্দোলনকারীদের।
অন্যদিকে, সল্টলেকের করুণাময়ীতে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) অফিসের সামনেও চলছে আর এক দল চাকরিহারা কর্মীদের অবস্থান-বিক্ষোভ। এঁরা হলেন চাকরি হারানো অশিক্ষক কর্মী (গ্রুপ C এবং গ্রুপ D)। তাঁদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে গতকাল সন্ধে ৭টা থেকে ৮ জন অশিক্ষক কর্মী আমরণ অনশন (hunger strike) শুরু করেছেন। বাইরে অন্য চাকরিহারা কর্মীরাও অবস্থানে রয়েছেন।
আন্দোলনরত চাকরিহারাদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার আসলে অযোগ্যদের বাঁচানোর জন্য চক্রান্ত করছে। যোগ্যদের বেতন দেওয়ার কথা বললেও কেন এখনও পর্যন্ত যোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
সব মিলিয়ে সল্টলেকের দুই প্রান্তে এসএসসি এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদের দফতরের সামনে চাকরিহারা শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের এই জোড়া আন্দোলনে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই লড়াই চলবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। রাতভর দফতরেই আটকে রয়েছেন এসএসসি-র চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। গতকাল চা-বিস্কিট নিয়ে ঢোকার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে এসএসসি অফিসের সামনে যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল, তা আজও স্পষ্টতই বিদ্যমান।