বিশেষ: ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গের মত সাফল্য পেতে চান? জেনেনিন তার ৪ টি বিশেষ নীতি

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম পরিচিত মুখ, ফেসবুকের সিইও মার্ক জুকারবার্গ কোটি কোটি মানুষের কাছেই এক অনুপ্রেরণার নাম। কলেজ জীবন থেকেই নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তুলে তিনি বহু তরুণকে তাদের স্বপ্ন পূরণে উৎসাহিত করেছেন। অল্প বয়সেই বিশ্বজোড়া খ্যাতি পেলেও এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে জুকারবার্গের কঠোর অধ্যবসায় এবং কিছু নিজস্ব নীতি। টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমে জুকারবার্গের সাফল্যের এই নীতিগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। জুকারবার্গের পরামর্শ অনুযায়ী ৪টি নীতি মেনে চললে আপনিও সাফল্য অর্জন করতে পারেন।
১. স্বপ্নের পেছনে শ্রম:
আপনার যা কিছু করার স্বপ্ন রয়েছে বা যে লক্ষ্য পূরণের পথে আপনি হাঁটতে চান, তার পেছনে পর্যাপ্ত সময় ও শ্রম ব্যয় করা অপরিহার্য। আপনি আপনার স্বপ্ন বা কাজ নিয়ে যত বেশি চিন্তা ভাবনা করবেন এবং সময় দেবেন, তত বেশি ইতিবাচক ফলাফল পাবেন। জুকারবার্গ তার কোম্পানি ও দলের সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সবসময় আলোচনা ও গবেষণা করেন, অর্থাৎ নির্দিষ্ট কাজের পেছনে তিনি ধারাবাহিকভাবে সময় ব্যয় করেন।
২. মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া:
নিজেকে সর্বেসর্বা বা সবজান্তা মনে না করে নিজের কাজ বা পরিকল্পনা নিয়ে ঊর্ধ্বতন এবং সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করা অত্যন্ত জরুরি। এর মাধ্যমে আপনি অন্যদের দৃষ্টিকোণ থেকে নিজের ভুলগুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং সেগুলো শুধরে আরও উন্নত হতে পারবেন। জুকারবার্গ নিয়মিতভাবে তার কোম্পানির সদস্যদের সঙ্গে একটি প্রশ্ন-উত্তর পর্ব পরিচালনা করেন, যেখানে তিনি কোম্পানির উদ্দেশ্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ইত্যাদি সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্ন আহ্বান করেন। এর মাধ্যমে তিনি নিজেও অনেক নতুন ধারণা লাভ করেন এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
৩. ভুল করতে ভয় পাবেন না:
ভুল করা মানব স্বভাবের একটি অংশ, এবং ভুল থেকেই মানুষ শেখে। যদি ফেসবুকের মতো একটি বিশাল প্ল্যাটফর্মের সিইও হিসেবে জুকারবার্গ নিজে ভুল করতে বা ভুল থেকে শিক্ষা নিতে দ্বিধা বোধ না করেন, তাহলে আপনারও ভুল নিয়ে অযথা ভয় পাওয়া উচিত নয়। তবে মনে রাখতে হবে, শুধু ভুল করলেই হবে না, সেই ভুলগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সংশোধনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করাও সমানভাবে জরুরি।
৪. হাল ছাড়বেন না:
জীবনের পথ সবসময় মসৃণ হয় না। চলার পথে কঠিন সময় বা খারাপ পরিস্থিতি আসতেই পারে। এরকম সময়ে কখনো হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। ধৈর্য ধরে সেই কঠিন সময়কে অতিক্রম করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আজকের বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক কিন্তু একদিনে তৈরি হয়নি। এই অবস্থানে আসার জন্য জুকারবার্গকে অসংখ্য sleepless night কাটাতে হয়েছে, অজস্র চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবুও তিনি কখনও নিজের লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি বা হাল ছেড়ে দেননি। তার এই অদম্য জেদ এবং লেগে থাকার মানসিকতাই ফেসবুককে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।