“সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে লিখেছিলাম”-হাজিরা খাতায় ছাঁটাই শিক্ষিকা, তারপর যা হলো?

সুপ্রিম কোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশের পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নেতাজি ইন্ডোরে শিক্ষকদের সমাবেশে সরাসরি জানতে চেয়েছিলেন, সরকারের পক্ষ থেকে কাউকে বরখাস্ত করা হয়েছে কি না। সেই সমাবেশে উপস্থিত সকল শিক্ষক ‘না’ বললেও, ভাতার থানার আমারুণ স্টেশন শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক স্বপনকান্তি চৌধুরী বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সোমালি চট্টোপাধ্যায়ের হাজিরা খাতায় গত ৩রা এপ্রিল স্পষ্টভাবে লিখে দেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে টার্মিনেট করা হলো।’
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার পর শিক্ষিকা সোমালি চট্টোপাধ্যায় বেশ কিছুদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। ফলে বিষয়টি অনেকের কাছেই অজানা থেকে যায়। পরবর্তীতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শিক্ষা মহলের অনেকেই এর তীব্র সমালোচনায় মুখ খোলেন। তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠন মাধ্যমিক শিক্ষা সমিতির সভাপতি অতনু নায়েক এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং বিষয়টি লিখিতভাবে ডিআই অফিস সহ রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের উচ্চতর কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের পূর্বের রায়ের পরিবর্তন ঘটলে, অতনু নায়েক সহ একাধিক শিক্ষক সংগঠনের নেতৃত্ব শনিবার বিদ্যালয়ে আসেন।
এই ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের এক্তিয়ার নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অবশেষে, প্রধান শিক্ষক স্বপনকান্তি চৌধুরী পুনরায় ওই শিক্ষিকার হাজিরা খাতায় লেখেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের ১৭ই তারিখের পরিবর্তিত রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে আগের লেখা টার্মিনেটের বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে বাতিল বলে গণ্য করা হলো।’ এই প্রসঙ্গে অতনু নায়েকের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘একজন প্রধান শিক্ষক কীভাবে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করতে পারেন? যেখানে স্বয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রীর সামনে দ্ব্যর্থহীনভাবে বলছেন যে, সরকার কাউকে বরখাস্ত করবে না, সেখানে তিনি কী করে এই ধরনের পদক্ষেপ নিলেন? আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি। যদিও প্রধান শিক্ষক নিজের ভুল স্বীকার করে তা সংশোধন করেছেন, তবুও আমরা বিষয়টি নিয়ে ডিআই-এর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করব।’
শনিবার শিক্ষিকা সোমালি চট্টোপাধ্যায় বিদ্যালয়ে আসেন এবং নিজের নির্ধারিত সমস্ত ক্লাস নেন। তবে, তিনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেননি। প্রধান শিক্ষক স্বপনকান্তি চৌধুরী এই বিষয়ে বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের পূর্বের রায় ঘোষণার পরই আমি ওই মন্তব্য লিখেছিলাম। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী কোনো শিক্ষক সমাবেশে বক্তব্য রাখেননি। তবে, বিষয়টি আজ মিটে গেছে। আমার আগের লেখা বাতিল করার কথাও আমি খাতায় লিখে দিয়েছি। সোমালিদেবীকে স্বাক্ষর করার অনুরোধও আমি জানিয়েছি। কিন্তু উনি জানিয়েছেন যে, ডিআই-এর সঙ্গে কথা বলার পরই তিনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করবেন।’
এই ঘটনা বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষা মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, ডিআই এই ঘটনায় কী পদক্ষেপ নেয় এবং শিক্ষিকা সোমালি চট্টোপাধ্যায় কবে তার স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরে আসেন।