বড় পর্দায় সাহিত্যের পাতা…’তিন গল্প এক করে ‘ভূতপূর্ব’ কাকলি-অভিনবের, অভিনয়ে কারা?

বড় পর্দায় আবারও ফিরছে সাহিত্য রসের আস্বাদ। পরিচালক কাকলি ঘোষ এবং অভিনব মুখোপাধ্যায় নিয়ে আসছেন তাদের নতুন বাংলা ছবি ‘ভূতপূর্ব’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মণিহারা’, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘তারানাথ তান্ত্রিক’ এবং মনোজ সেনের ‘শিকার’ – এই তিনটি ভিন্ন স্বাদের গল্পকে এক সূত্রে গেঁথে ‘ভূতপূর্ব’ নির্মাণ করছেন পরিচালক জুটি।

ছবির মুখ্য চরিত্রে কারা থাকছেন, তা ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছে। ‘তারানাথ তান্ত্রিক’ গল্পে মাতু পাগলির চরিত্রে দেখা যাবে রূপাঞ্জনা মিত্রকে। পূর্ণেন্দুর ভূমিকায় থাকছেন সুহোত্র মুখোপাধ্যায়, ফণীভূষণের চরিত্রে সত্যম ভট্টাচার্য এবং মণিমালিকার চরিত্রে অভিনয় করছেন অমৃতা চট্টোপাধ্যায়। সপ্তর্ষি মৌলিককে দেখা যাবে তারানাথ তান্ত্রিকের চরিত্রে এবং তিলোত্তমার ভূমিকায় থাকছেন সন্দীপ্তা সেন।

‘তারানাথ তান্ত্রিক’ গল্পের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র মাতু পাগলি। পাগলি বেশে থাকলেও চরিত্রটির গভীরতা নিয়ে রূপাঞ্জনা মিত্র বলেন, “মাতু তো এক জন্মে তার আরাধ্য দেবীকে পায়নি। তাই বারবার তার জন্ম হয়েছে। মাতুর কাছেই আসে তারানাথ তান্ত্রিক। আমরা অজয় নদীর তীরে শুটিং করেছি। অজয় নদীর তীরে তো আজও মানুষ পোড়ানো হয়। সেখানে অন্ধকারেও শুটিং করেছি। সব মিলিয়ে খুব সুন্দর একটা অভিজ্ঞতা হল এই কাজের মাধ্যমে। তার উপরে অনেকদিন পর একটা সাহিত্যধর্মী ছবি বড় পর্দায়। তার সঙ্গে নিজে যুক্ত থাকায় বেশ ভালো লাগছে। মাতু খুব ইন্টারেস্টিং একটা চরিত্র। তাকে বুঝতে আমার বেশ মজা লেগেছে।”

রূপাঞ্জনা আরও মনে করেন, বাংলা সাহিত্যের যে বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে, তা দর্শকের সামনে আসা উচিত। শুধু পরিচিত লোকেশন নয়, বাংলা সিনেমায় ছোট ছোট সুন্দর গ্রামগুলিও দেখানো প্রয়োজন।

ছবির গল্প প্রসঙ্গে জানা যায়, ষাটের দশকের শেষ ভাগের প্রেক্ষাপটে তৈরি হয়েছে ‘ভূতপূর্ব’। বিভূতিভূষণের বাড়িতে এক বৃষ্টিমুখর সন্ধ্যায় নীলকণ্ঠ ও শশীধর নামে দুই ব্যক্তির আগমন ঘটে। তিনজনের আড্ডায় উঠে আসে তিনটি ভিন্ন কাহিনি।

নীলকণ্ঠ শোনান ফণীভূষণ সাহা ও তার স্ত্রী মনিমালিকার গল্প, যা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মণিহারা’ অবলম্বনে তৈরি। মণিহারা গল্পে দেখা যায় ধনী ব্যবসায়ী পরিবারের শেষ বংশধর ফণীভূষণ, যে স্ত্রীকে গভীরভাবে ভালোবাসে। অন্যদিকে, মণিমালিকা অত্যন্ত স্বার্থপর এবং গয়নার প্রতি তার অসীম লোভ। গয়নার প্রতি এই তীব্র আকর্ষণই মৃত্যুর পরেও তাকে অতৃপ্ত রাখে এবং ফণীভূষণের মণির প্রতি এক অসহায় আকর্ষণই তার মৃত্যুর কারণ হয়।

এরপর বিভূতিভূষণ বলেন তার ‘তারানাথ তান্ত্রিক’ অভিজ্ঞতার কথা। স্বপ্নে এক সাধুর ইঙ্গিত পেয়ে গৃহত্যাগ করে তারানাথ পৌঁছায় বীরভূমের এক গ্রামে। সেখানে তার সাক্ষাৎ হয় মাতু পাগলির সঙ্গে। তার কাছ থেকে দীক্ষা নেওয়ার বাসনায় তারানাথ এক অনন্য অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়। ভোগ ও ত্যাগের দ্বন্দ্বে তার সাধনার আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ থাকলেও, পাগলি তাকে কিছু শক্তি দান করেন।

সবশেষে শশীধর বলেন পূর্ণেন্দুর গল্প, যা মনোজ সেনের ‘শিকার’ অবলম্বনে নির্মিত। ইন্দো-চীন যুদ্ধের পর শহরে চোরাচালানকারীদের রমরমা শুরু হয়। এই ব্যবসার অন্যতম পান্ডা নটবর দত্তের অধীনে কাজ করত সুদর্শন ও উচ্চশিক্ষিত পূর্ণেন্দু। নটবর দত্ত পূর্ণেন্দুকে এক সুন্দরী বিধবা তিলোত্তমাকে ভুলিয়ে তাদের বনেদি বাড়ির সিন্দুক থেকে ঠাকুরের মূর্তিতে বসানো বহুমূল্য রত্ন চুরি করার দায়িত্ব দেয়। এর আগে অন্য একজন বাহুবলীও এই কাজ করতে গিয়ে ব্যর্থ ও রহস্যজনকভাবে মারা যায়। পূর্ণেন্দু সমস্ত প্রস্তুতি নিয়ে কাজে নামে এবং সফলও হয়, কিন্তু শেষ পর্যায়ে তার যে পরিণতি হয়, তা শশীধরের মুখেই শেষ হয়।

তিনটি ভিন্ন গল্প শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাতেরও অবসান হয় এবং তিনজনের আড্ডা ভেঙে যায়। এই তিনটি কাহিনিকে যে অদৃশ্য সূত্র এক করে রেখেছে, সেটাই ‘ভূতপূর্ব’ ছবির চতুর্থ গল্প। দীর্ঘদিন পর বড় পর্দায় সাহিত্যধর্মী ছবি মুক্তি পাওয়ায় দর্শক মহলে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।