“সীমান্তবর্তী এলাকায় সুরক্ষার জন্য হিন্দুদের অস্ত্র রাখার অনুমতি দেওয়া হোক”- দাবি শুভেন্দুর

মুর্শিদাবাদের সাম্প্রতিক অশান্তি এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, সীমান্তবর্তী যে সব এলাকায় হিন্দু জনসংখ্যা ২০ শতাংশেরও কম, সেই সব অঞ্চলে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের আত্মরক্ষার স্বার্থে বৈধ অস্ত্র রাখার অনুমতি দেওয়া হোক।

শুভেন্দুর বক্তব্য, “বিএসএফ বা সিআরপিএফ সবসময় সেখানে থাকে না। বাংলাদেশ সীমান্তের যে ৫০ কিলোমিটার এলাকা রয়েছে, যেখানে হিন্দু জনসংখ্যা ২০ শতাংশের নিচে, সেখানে কাশ্মীরের পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকার মতোই স্পেশ্যাল অ্যাক্টের আওতায় বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া উচিত। আত্মরক্ষা প্রত্যেকের অধিকার।”

কাশ্মীরের উদাহরণ টেনে শুভেন্দু বলেন, “কাশ্মীরের অনেক গ্রামে এই ব্যবস্থা রয়েছে। মুর্শিদাবাদে একই মডেল কার্যকর না করলে, যেখানে এখন ১০-১৫ শতাংশ হিন্দু রয়েছে, ভবিষ্যতে তাও থাকবে না।”

প্রসঙ্গত, ওয়াকফ আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে উত্তাল হয়েছে মুর্শিদাবাদের একাধিক এলাকা। সামশেরগঞ্জ ও সুতির মতো অঞ্চলে হিংসার ঘটনায় প্রাণহানিও হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শুভেন্দু অধিকারীর আবেদনের ভিত্তিতে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে এলাকায় মোতায়েন করা হয় আধাসেনা। যদিও প্রথমে বাহিনী মোতায়েনের সময়সীমা ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল, পরে আদালতের নির্দেশে বাহিনী মোতায়েনের মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়।

এই বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তরজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে সরকারিভাবে এখনও পর্যন্ত শুভেন্দুর দাবির কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।