স্কুলে গেলেও সই করতে দিলেন না হেডমাস্টার, বাড়ি ফিরে গেলেন চাকরিহারা শিক্ষক

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি হারানোর পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণার উপর ভরসা করে স্কুলে গিয়েছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার গোপালনগর বিহারীলাল বিদ্যাপীঠের এক শিক্ষক ও এক গ্রুপ ডি কর্মী। তবে স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাঁদের হাজিরা খাতায় সই করতে দেননি। ফলে হতাশ হয়ে তাঁরা ফিরে এসেছেন। প্রধান শিক্ষকের সাফ কথা, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে চাকরিহারা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীকে সই করতে দেওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে, চাকরিহারা শিক্ষকের পাল্টা প্রশ্ন, “সই না করতে দেওয়ার কি কোনও সরকারি নির্দেশ আছে?”

জানা গিয়েছে, গত ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০১৬ সালের প্যানেল বাতিল হওয়ার পর বিহারীলাল বিদ্যাপীঠের দু’জন শিক্ষক এবং তিনজন গ্রুপ ডি কর্মীর চাকরি চলে যায়। গত ৭ এপ্রিল নেতাজি ইন্ডোরের সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাকরিহারা শিক্ষকদের স্কুলে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর সেই কথা মতো বুধবার বিহারীলাল বিদ্যাপীঠে যান নবম-দশমের ইংরেজি শিক্ষক সুশান্ত মাইতি এবং গ্রুপ ডি কর্মচারী তাপস কর। তাঁদের দাবি, এর আগেও দু’দিন তাঁরা স্কুলে গিয়েছিলেন, কিন্তু প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় মাইতি সই করতে না দেওয়ায় তাঁদের ফিরে আসতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা ফের স্কুলে যাবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয়ে ভুগছেন।

২০১৯ সালে বিহারীলাল বিদ্যাপীঠে যোগ দেওয়া শিক্ষক সুশান্ত মাইতি এদিন নির্ধারিত সময়ে স্কুলে পৌঁছলে প্রধান শিক্ষক স্পষ্ট জানান, তিনি কোনওভাবেই সুশান্তকে হাজিরা খাতায় সই করতে দেবেন না। ফলে সুশান্ত এদিন ক্লাসে যাননি। কিছুক্ষণ স্টাফরুমে অপেক্ষা করার পর বিকেলে স্কুল ছাড়েন। ক্ষুব্ধ সুশান্ত পরে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর কথায় স্কুলে গিয়েছিলাম। প্রধান শিক্ষক আদালত অবমাননার কথা বলছেন। আমি মনে করি, আদালত অবমাননা যদি হয়, তা রাজ্য সরকারের হবে। কিন্তু উনি ওঁর যুক্তিতে অনড়। আমি ওনাকে সই করতে না দেওয়ার সরকারি নির্দেশ দেখাতে বলি, কিন্তু উনি তা দেখাতে পারেননি। এই নিয়ে তিনদিন স্কুলে গেলাম, একদিনও সই করতে পারিনি। তাই ক্লাসেও যাইনি। স্কুলে গিয়েও পড়াতে পারছি না, এই যন্ত্রণা অসহ্য।” একই অভিজ্ঞতা হয়েছে গ্রুপ ডি কর্মী তাপস করের। তাঁকেও এদিন হাজিরা খাতায় সই করতে দেননি প্রধান শিক্ষক। ‘অপমানিত’ তাপস বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীই তো বলেছিলেন। কাল সিদ্ধান্ত নেব আর স্কুলে যাব কিনা।”

অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় মাইতি নিজের অবস্থানে অনড়। তিনি বলেন, “প্রধান শিক্ষক হিসেবে আমি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করতে পারব না। তবে ওঁরা যে ক’দিন স্কুলে এসেছেন, আমি একটি খাতায় তার উল্লেখ রেখেছি। ওঁরা নিজেরাও ক্লাসে যাননি, কিছুক্ষণ স্কুলে থেকে বাড়ি ফিরে গেছেন।”

বর্তমানে ১৪০০ ছাত্রছাত্রীর এই স্কুলে শিক্ষকের ১৫টি পদ ফাঁকা। এই পরিস্থিতিতে স্কুল পরিচালনা করতে সমস্যায় পড়ছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। স্কুলের একমাত্র সংস্কৃত শিক্ষকের চাকরি চলে যাওয়ায় সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির সংস্কৃত বিষয়ের খাতা কে দেখবেন, তা নিয়ে চিন্তিত প্রধান শিক্ষক। এমনকি একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে সংস্কৃতের ক্লাসও বন্ধ রয়েছে। এই ঘটনায় চাকরিহারা শিক্ষক ও কর্মীদের ভবিষ্যৎ এবং স্কুলের পঠনপাঠন নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।