দিল্লিতে ধরনায় চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষকেরা, প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা

চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষকদের একটি দল বুধবার দিল্লির যন্তরমন্তরে ধরনায় বসেছেন। সোমবার ধর্মতলা থেকে রওনা হওয়া একটি বাসে প্রায় ৬৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মী এদিন ভোররাতে দিল্লি পৌঁছান। এরপরই দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত যন্তরমন্তরের সামনে চলে এই প্রতীকী অবস্থান। একদিনের কর্মসূচি শেষে রাতেই কলকাতায় ফিরে আসার কথা রয়েছে তাঁদের।

এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হল, চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষকেরা তাঁদের দুর্দশার কথা প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি এবং অন্যান্য সাংসদদের কাছে তুলে ধরা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাতিল হওয়া ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের চাকরির মধ্যে বহু অযোগ্য শিক্ষক থাকলেও, সেখানে বহু যোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীও রয়েছেন। সিবিআই তদন্ত করেও যাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পায়নি। কিন্তু সেই রিপোর্ট শীর্ষ আদালত মান্যতা না দেওয়ায় ২০১৬ সালের পুরো প্যানেল বাতিল হয়ে যায়, যার ফলে রাজ্যের স্কুলগুলিতে চরম সংকট তৈরি হয়েছে।

অন্যায় না করেও কেন শাস্তি পেতে হচ্ছে, এই প্রশ্ন তুলে ধরেই পথে নেমেছেন ‘যোগ্য’ চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীরা। সেই প্রশ্ন নিয়েই এবার দিল্লিতে একদিনের ধরনা কর্মসূচি পালন করলেন তাঁরা।

দিল্লির যন্তরমন্তরে ধরনায় বসে চাকরিহারা শিক্ষক চিন্ময় মণ্ডল বলেন, “আমি গোটা দেশের মানুষের কাছে জানাতে চাইছি আমাদের সঙ্গে কী অন্যায় হয়েছে? যে সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীরা যোগ্য, যাদের বিরুদ্ধে একটাও অভিযোগ নেই, তাদেরকে কেন শাস্তি দেওয়া হবে? কলকাতা হাইকোর্ট এবং পরবর্তীকালে সুপ্রিম কোর্ট গোটা প্যানেলটাকে বাতিল করে দিয়েছে। যে সমস্ত কর্তৃপক্ষ এবং নেতা-মন্ত্রীরা এই টাকা খেয়ে চাকরি দিয়েছিল, তাদের যেন উপযুক্ত শাস্তি হয়। তাদের মৃত্যু হোক। এর পাশাপাশি যারা টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছে তাদেরও শাস্তি দেওয়া হোক। কিন্তু তাদের শাস্তির সঙ্গে কেন আমাদেরকে শাস্তি দেওয়া হবে।”

জানা গিয়েছে, দিল্লি যাওয়ার পথে শিক্ষকেরা যেখানে বিশ্রাম নিয়েছেন, সেখানেও তাঁরা লিফলেট বিলি করেছেন। এলাহাবাদ বাইপাস এবং উত্তরপ্রদেশের একটি স্কুলেও তাঁরা লিফলেট বিতরণ করে নিজেদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন।

এই বিষয়ে চাকরিহারা শিক্ষক চিন্ময় মণ্ডল আরও বলেন, “আমরা দিল্লিতে এসেছি যাতে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি এবং যে সমস্ত সংসদরা রয়েছেন তারাও বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন। কারণ তাদের জানা উচিত আমরা তাদেরই দেশের মানুষ। সিবিআই, বাগ কমিটি তদন্ত করে রিপোর্ট জমা করেছে। সেখানেও আমাদের বিরুদ্ধে একটাও অভিযোগ উঠে আসেনি। আমরা চাই অবিলম্বে রাজ্য সরকার, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, স্কুল সার্ভিস কমিশন কোর্টে উপযুক্ত তথ্য দিয়ে আমাদের চাকরি যে কোনও উপায়ে ফিরিয়ে দিক।”