“২০টির মধ্যে ১৯টি আঙুলের ছাপই মিলছে না”- ধোঁয়াশা বাড়ল সাইফ আলি খানের ওপর হামলা তদন্তে

বলিউড অভিনেতা সাইফ আলি খানের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া শরিফুল ইসলামকেই মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তদন্ত কমিটি তার বিরুদ্ধে একাধিক সাক্ষ্যপ্রমাণ থাকার দাবিও করেছে। এমনকি ফরেন্সিক রিপোর্টও শরিফুলের বিরুদ্ধেই গিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শরিফুলের আইনজীবী আদালতে জামিনের আবেদন করলে, মুম্বাই পুলিশ একাধিক সাক্ষ্য ও তথ্যপ্রমাণ পেশ করে তার জামিনের বিরোধিতা করে এবং হাজার পাতার একটি চার্জশিটও জমা দেয়।
তবে এবার তদন্তে অপ্রত্যাশিত মোড়। অভিনেতার আবাসন থেকে উদ্ধার হওয়া আঙুলের ছাপের সঙ্গে শরিফুলের আঙুলের ছাপের বড়সড় অমিল ধরা পড়েছে!
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, অভিযুক্ত শরিফুলের আঙুলের ছাপের ২০টি নমুনা সিআইডির ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যুরোতে পাঠানো হয়েছিল। যার মধ্যে ১৯টি নমুনাই অভিযুক্তের সঙ্গে মেলেনি। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে, তাহলে কি সত্যিই শরিফুল সাইফ আলি খানের ওপর হামলার সঙ্গে যুক্ত নন?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিনেতার বাথরুমের হাতল, আলমারির হাতল, দরজার হাতলসহ বিভিন্ন স্থান থেকে যে আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা হয়েছিল, তার মধ্যে বেশিরভাগই শরিফুলের ছাপের সঙ্গে মেলেনি। ২০টি নমুনার মধ্যে মাত্র একটি, যা আটতলার ঘর থেকে পাওয়া গেছে, সেটি অভিযুক্তের আঙুলের ছাপের সঙ্গে মিলেছে।
পুলিশ অবশ্য এর একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, অন্যান্য স্থানের হাতলে অভিযুক্তের পাশাপাশি অন্য লোকেরাও হাত রেখেছিলেন। ফলে, শরিফুলের আঙুলের ছাপের উপরে অন্য ছাপ পড়ায় তা মুছে গেছে।
তাদের আরও দাবি, এই ধরনের অমিল অনেক তদন্তেই স্বাভাবিক ঘটনা। সাধারণত, বহু মানুষের মধ্যে একজনের ছাপ মিলে যেতে পারে। তবে আটতলার ঘর থেকে পাওয়া একটিমাত্র আঙুলের ছাপই প্রমাণ করে যে হামলাকারী অভিনেতার বাড়িতে উপস্থিত ছিল।
মুম্বাই পুলিশের চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ থেকে আগত শরিফুল অবৈধভাবে তার পরিবারের কাছে টাকা পাঠাতেন। চার্জশিটে পুলিশ জানিয়েছে, শরিফুল তার সহকারী অমিত পাণ্ডের মাধ্যমে আবদুল্লাহ আলিমের কাছে টাকা পাঠাতেন, যিনি তার বোনের স্বামী।
চার্জশিটে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বেঙ্গালুরুর একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতীয় মুদ্রা দেশ থেকে বাইরে পাঠানো হচ্ছিল।
আঙুলের ছাপের এই বড়সড় অমিল তদন্তের গতিপথ কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। শরিফুলের আইনজীবী এই নতুন তথ্যপ্রমাণ আদালতে পেশ করে জামিনের জন্য আরও জোরালো আবেদন জানাতে পারেন বলে মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।