“শিশুপাচার হওয়া হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হবে”-বড় নির্দেশ দিলো সুপ্রিম কোর্ট

হাসপাতালে শিশুপাচারের মতো ঘৃণ্য অপরাধের ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে এই অপরাধ প্রতিরোধে দেশের সমস্ত রাজ্যকে কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে শীর্ষ আদালত।
বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের একটি বেঞ্চ নিম্ন আদালতগুলিকে শিশুপাচার সংক্রান্ত মামলার বিচার ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়াও, ভবিষ্যতে কোনও হাসপাতালে সদ্যোজাত শিশু পাচারের ঘটনা ঘটলে সেই হাসপাতালের লাইসেন্স অবিলম্বে স্থগিত করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।
শীর্ষ আদালত আরও বলেছে, “দেশের সমস্ত উচ্চ আদালতকে শিশু পাচার সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলাগুলির বর্তমান অবস্থা জানতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর ছয় মাসের মধ্যে বিচার শেষ করার এবং প্রতিদিন এই মামলাগুলির শুনানি পরিচালনা করার জন্য নির্দেশ জারি করা হবে।”
উত্তরপ্রদেশের এক দম্পতির কাছে পাচার হওয়া একটি শিশুকে কেন্দ্র করে সন্তান প্রসবের মামলার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের এই কঠোর মন্তব্য উঠে আসে। এলাহাবাদ হাইকোর্ট এই মামলায় অভিযুক্তদের আগাম জামিন মঞ্জুর করেছিল।
অভিযুক্তদের জামিন বাতিল করার সময় সুপ্রিম কোর্ট এলাহাবাদ হাইকোর্ট এবং উত্তরপ্রদেশ সরকার উভয়কেই বিষয়টি পরিচালনার ক্ষেত্রে চরম গাফিলতির জন্য তীব্র সমালোচনা করেছে।
উত্তরপ্রদেশ সরকার আদালতে জানিয়েছে, “অভিযুক্তরা পুত্র সন্তান চেয়েছিলেন। এরপর চার লক্ষ টাকার বিনিময়ে তারা এই ছেলেটিকে পান। পুত্র সন্তান চাওয়া স্বাভাবিক, তবে পাচার হওয়া সন্তান গ্রহণ করা আইনত দণ্ডনীয়। তারা জানতেন যে বাচ্চাটি চুরি করা হয়েছে।”
শীর্ষ আদালত বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে, এলাহাবাদ হাইকোর্ট জামিনের আবেদনগুলি “নির্মমভাবে” মোকাবিলা করেছে, যার ফলস্বরূপ অনেক অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক। আদালত আরও বলেছে, “এই অভিযুক্তরা সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি। জামিন মঞ্জুর করার সময় হাইকোর্টের কাছ থেকে সর্বনিম্ন যা প্রত্যাশিত ছিল, তা হল অভিযুক্তদের প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট থানায় হাজিরা দেওয়ার শর্ত আরোপ করা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, পুলিশ এখন সমস্ত অভিযুক্তের খোঁজ হারিয়েছে।”
সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র হতাশা প্রকাশ করে বিচারপতিরা বলেন, “আমরা সম্পূর্ণ হতাশ… কেন এই বিষয়ে কোনও আপিল করা হয়নি? ন্যূনতম গুরুত্বও দেখানো হয়নি।” সুপ্রিম কোর্টের এই কঠোর বার্তা এবং নির্দেশিকা শিশুপাচারের মতো জঘন্য অপরাধ দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।