“বাংলার মুখ্যমন্ত্রী দাঙ্গাবাজদের শান্তির দূত বলছেন”-মমতাকে কটাক্ষ যোগী আদিত্যনাথের

মুর্শিদাবাদে হিংসার ঘটনা নিয়ে ফের একবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। মঙ্গলবার হরদইয়ের একটি জনসভায় যোগী বলেন, “বাংলায় দেখুন দাঙ্গা হচ্ছে, আর মুখ্যমন্ত্রী চুপ করে বসে আছেন। দাঙ্গাবাজদের শান্তির দূত বলছেন। আরে লাথো কে ভূত, বাতোঁ নিয়ে কাঁহা মাননে ওয়ালে হ্যায়?”
যোগীর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন এবং অভিযোগ করেছেন, বাংলায় দাঙ্গাকারীদের যেন ইচ্ছাকৃতভাবে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দেওয়া হয়েছে।
যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “বাংলা পুড়ছে, মুখ্যমন্ত্রী নীরব। যারা দাঙ্গা করছে, তারা মুখ্যমন্ত্রীকে শান্তির দূত বলছে।” তিনি আরও বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতার নামে যারা হিংসা ছড়াচ্ছে, তাদের দমন না করে বরং প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, যারা দেশের সংস্কৃতি ও নিয়মনীতি মানে না এবং বাংলাদেশি চিন্তাধারা পছন্দ করে, তাদের বাংলাদেশেই চলে যাওয়া উচিত। এই ধরনের স্পষ্ট বার্তা এর আগেও বিজেপি নেতাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী যোগীর এই মন্তব্য আরও বেশি জোরালো।
তিনি কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টিকেও আক্রমণ করেন। বলেন, “বাংলায় এত বড় দাঙ্গা চলছে, আর কংগ্রেস-সপা নেতারা নীরব। এটাই তাদের মুখোশ উন্মোচন করে দিয়েছে।”
সাম্প্রতিক মুর্শিদাবাদ, ভাঙড় এবং শমশেরগঞ্জের ওয়াকফ ইস্যু ঘিরে যা ঘটেছে, তাতে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। যোগী আদিত্যনাথের এই মন্তব্য সেই আগুনে আরও ঘি ঢালল। তার এই বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে আরও আলোড়ন সৃষ্টি করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।