ধর্ষণ করতে না পেরে ৫ বছরের শিশুকে গলা টিপে খুন! অভিযুক্তকে এনকাউন্টারে খতম করলেন পুলিশ

কর্নাটকের হুবলিতে এক মর্মান্তিক ঘটনায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের চেষ্টার পর শ্বাসরোধ করে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টাকালে এনকাউন্টারে খতম করেছে পুলিশ। এই নৃশংস ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হুবলি জেলার বাসিন্দা ওই শিশুকন্যা তার বাড়ির সামনে খেলছিল। সেই সময় অভিযুক্ত তাকে অপহরণ করে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। শিশুটি চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন ছুটে এলে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে অভিযুক্ত তার গলা টিপে ধরে। শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়। এরপর অভিযুক্ত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

তদন্তে নেমে পুলিশ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে। সেখানে দেখা যায়, অভিযুক্ত শিশুটিকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। এরপর পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের করে এবং ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালায়। দীর্ঘ চেষ্টার পর অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ব্যক্তি আদতে বিহারের বাসিন্দা এবং তিন মাস আগে কাজের সন্ধানে কর্নাটকের হুবলিতে এসেছিল। সে বিভিন্ন সময়ে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করত।

হুবলির পুলিশ কমিশনার শশী কুমার জানান, গ্রেফতারের পর অভিযুক্ত পুলিশের কাছে মুখ খুলতে চাইছিল না এবং জেরায় বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছিল। বাধ্য হয়ে পুলিশ তার সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য তাকে তার ভাড়া বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর অভিযুক্ত আকস্মিকভাবে পুলিশের উপর পাথর ছুড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ তাকে বারবার সতর্ক করলেও সে পালানোর চেষ্টা চালিয়ে যায় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে থাকে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মহিলা সাব-ইন্সপেক্টর অন্নপূর্ণা প্রথমে শূন্যে গুলি চালান। কিন্তু অভিযুক্ত তাতেও না থেমে পুলিশের উপর পাথর বর্ষণ করতে থাকলে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে দুই-তিন রাউন্ড গুলি চালায়। একটি গুলি অভিযুক্তের পায়ে এবং অন্যটি পিঠে লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এই সংঘর্ষে এক জন সাব-ইন্সপেক্টর ও দুই জন পুলিশ আধিকারিকও আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশের এনকাউন্টারের ঘটনাটিও এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।