বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী!‌ কলকাতা থেকে জেলায় থাকতে পারে সফর, রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের পরপর দু’বার বাংলা সফর বাতিল হওয়ার পর এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্যে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী ২৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী বাংলায় আসতে পারেন। যদিও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এখনও পর্যন্ত নবান্নকে এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বার্তা পাঠানো হয়নি।

বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে প্রধানমন্ত্রীর এই সম্ভাব্য সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারণ বর্তমানে রাজ্য একাধিক স্পর্শকাতর ইস্যুতে উত্তপ্ত। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদে ওয়াকফ আইন নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছে এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর আগমন এবং তাঁর সম্ভাব্য মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছে বিজেপি শিবির। লোকসভা নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না হওয়ায় দলের মনোবল চাঙ্গা করতে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। দলের নেতারা তাই প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিকে তাকিয়ে আছেন।

সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী একটি কেন্দ্রীয় সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। পাশাপাশি, কলকাতা বা সংলগ্ন কোনও জেলায় একটি জনসভা হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে, প্রধানমন্ত্রীর মতো ভিভিআইপি-র রাজ্য সফর ঘিরে নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নবান্ন এবং রাজ্য পুলিশের কাছে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক খবর না পৌঁছানোয় জল্পনা আরও বাড়ছে।

যদিও প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় থেকে শীঘ্রই বার্তা আসবে বলে মনে করা হচ্ছে, তবে সফরের তারিখে পরিবর্তনও হতে পারে। এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বঙ্গ সফর রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সুর আরও চড়ানোর সুযোগ করে দিতে পারে বিরোধীদের।

যদি শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী মোদী বাংলায় আসেন এবং জনসভা করেন, তবে সেই সভাকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির আনুষ্ঠানিক প্রচারের সূচনা হিসেবে দেখা যেতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার রাজ্যে এসেছিলেন এবং ব্যাপক প্রচার চালিয়েছিলেন। তবে, সেই নির্বাচনে বিজেপির আসন সংখ্যা ১৮ থেকে কমে ১২-তে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার, প্রধানমন্ত্রীর এই সম্ভাব্য সফর বঙ্গ বিজেপির জন্য কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।