“প্রাণ বাঁচাতে পালাতে হচ্ছে হিন্দুদের”- ছবি পোস্ট করে দাবি করলেন শুভেন্দু অধিকারী

ওয়াকফ সংশোধনী আইনের বিরোধিতায় শুক্রবার মুর্শিদাবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, কলকাতা হাইকোর্ট হস্তক্ষেপ করে এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব শনিবার সন্ধ্যায় রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ এবং ডিজি রাজীব কুমারের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে রাজ্যের ডিজিপি জানান, ধুলিয়ান এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ, তবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ১৫০ জনের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিএসএফের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

হাইকোর্টের নির্দেশের পরই কেন্দ্রীয় বাহিনী মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন উপদ্রুত এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। জানা গিয়েছে, রবিবার সকাল ন’টা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্য পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে এলাকায় টানা রুট মার্চ করবে।

এদিকে, ধুলিয়ানের অশান্ত পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে বহু মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। প্রায় শতাধিক মানুষ মালদা জেলার কালিয়াচকের পল্লার পুর গ্রামে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁরা রাতেই জলপথে মালদহে এসে পৌঁছেছেন।

এই পরিস্থিতিতে মুর্শিদাবাদ থেকে বেশ কিছু হিন্দু পরিবার প্রাণের ভয়ে মালদার দিকে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে টুইট করেছেন।

নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক তাঁর টুইটে লেখেন, “ধর্মীয়ভাবে উদ্বুদ্ধ ধর্মান্ধদের ভয়ে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান থেকে ৪০০ জনেরও বেশি হিন্দু নদী পার হয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল এবং মালদহের বৈষ্ণবনগরের দেওনাপুর-সোভাপুর জিপির পার লালপুর হাইস্কুলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। বাংলায় ধর্মীয় নিপীড়ন বাস্তব। তৃণমূল কংগ্রেসের তোষণের রাজনীতি উগ্রপন্থীদের উৎসাহিত করেছে। হিন্দুদের শিকার করা হচ্ছে, আমাদের লোকেরা তাদের নিজের দেশে তাদের জীবনের জন্য দৌড়াচ্ছে! আইনশৃঙ্খলার এই ভাঙন রাজ্য সরকারের লজ্জা। আমি জেলায় মোতায়েন কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী, রাজ্য পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনকে এই বাস্তুচ্যুত হিন্দুদের নিরাপদে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার এবং এই জিহাদি সন্ত্রাস থেকে তাদের জীবন রক্ষা করার জন্য অনুরোধ করছি। বাংলা জ্বলছে। সামাজিক কাঠামো ছিঁড়ে গেছে। যথেষ্ট হয়েছে।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শুক্রবার মুর্শিদাবাদে ওয়াকফ সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে ভয়াবহ হিংসার ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীরা একের পর এক সরকারি গাড়ি জ্বালিয়ে দেয় ও সরকারি সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও তা যথেষ্ট ছিল না বলে অভিযোগ।

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ওয়াকফ সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়া অশান্তি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁর সেই আবেদনকে গুরুত্ব দিয়ে হাইকোর্ট মুর্শিদাবাদে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেয়।

বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মুর্শিদাবাদের ওয়াকফ হিংসার জেরে বহু মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। এই নিয়ে হাতে সামান্য জিনিসপত্র নিয়ে গঙ্গাপারে এসে ভিড় করা ঘরছাড়া মানুষের ভিডিও পোস্ট করে বিজেপি নেতারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। অমিত মালব্য, শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী, সুকান্ত মজুমদার, কেয়া ঘোষ প্রমুখ বিজেপি নেতা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে অভিযোগ করেছেন, প্রাণের ভয়ে আতঙ্কিত বহু মানুষ ধুলিয়ান থেকে বৈষ্ণবনগরের পারলালপুরে পালিয়ে যাচ্ছেন।