“সারা দেশেই এই হিংসা ছড়িয়েছে… দায় মোদী-শাহ-যোগীর”- মোদী সরকারকে দুষলেন মদন মিত্র

মুর্শিদাবাদে ওয়াকফ আইন ঘিরে সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনার জন্য এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারকে কাঠগড়ায় তুললেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মদন মিত্র। শনিবার তিনি বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, ‘এই হিংসা শুধু বাংলায় নয়, সারা দেশ জুড়েই ছড়িয়েছে। এর দায় একমাত্র কেন্দ্রের। জোর করে দেশজুড়ে ওয়াকফ আইন চাপিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। আজ দেশের যেখানেই হিংসার ঘটনা ঘটছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে তার দায় নিতে হবে।’
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিনে মুর্শিদাবাদে ওয়াকফ আইন বিরোধী বিক্ষোভ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পাথর ছোড়া, অগ্নিসংযোগ, ট্রেন অবরোধ, সরকারি দপ্তর ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটেছে। এমনকি বিক্ষোভকারীরা পুলিশ কর্মীদেরও নিশানায় নিয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন এক বাবা ও ছেলে। আহত হয়েছেন ১৫ জন পুলিশকর্মী এবং গ্রেফতার করা হয়েছে দেড়শোরও বেশি ব্যক্তিকে।
সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা ছড়িয়েছে সামসেরগঞ্জের জাফরাবাদ ও সুতির এলাকাগুলিতে। সেখানে ভয়াবহতার চরম নিদর্শন দেখা গেছে। বিক্ষোভের মাঝে বাড়িতে ঢুকে হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর ছেলে চন্দনকে নৃশংসভাবে ধারাল অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে হাসপাতালে তাঁদের মৃত ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিমধ্যেই বিএসএফ মোতায়েন করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে মুর্শিদাবাদে কেন্দ্রীয় আধাসেনা পাঠানো হচ্ছে। কেন্দ্র জানিয়েছে, রাজ্য সরকারের অনুরোধেই ১৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই আইন বাংলায় কার্যকর হবে না। তাঁর সাফ কথা, ‘এই আইন কেন্দ্র করেছে, রাজ্য সরকারের কোনও যোগ নেই। আমরা বলেছি, এই আইন বাংলায় চালু হবে না, তাহলে এই হিংসা কেন?’ মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।
এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্ট কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারকেই আগামী ১৭ এপ্রিলের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘এই অবস্থায় আদালত চোখ বন্ধ করে থাকতে পারে না। নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য কড়া পদক্ষেপ জরুরি।’
রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। ওয়াকফ আইন ঘিরে এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।