“যোগ্য-অযোগ্য আলাদা করবে রাজ্য”-শিক্ষ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর যা জানালেন শিক্ষকরা?

২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চাকরি হারানো প্রার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)। কমিশন জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে চাকরিচ্যুতদের মধ্যে যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের পৃথক তালিকা তৈরি করা সম্ভব। এসএসসি ভবনের সামনে দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষোভরত চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠকের পরই এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
বৈঠকে এসএসসি চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার চাকরিপ্রার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, কমিশন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনেই কাজ করবে এবং প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের পাশে থাকবে। তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই বিতর্কিত প্রার্থীদের তালিকা যেমন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে, তেমনই যে সকল প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কোনও রকম দুর্নীতির অভিযোগ নেই, তাঁদের একটি পৃথক তালিকাও শীঘ্রই আদালতে পেশ করা হবে।
বৈঠকের পর চাকরি হারানো প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম চিন্ময় মণ্ডল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “আমরা যারা এখানে দিনের পর দিন ধরে আন্দোলন করছি, প্রত্যেকেই চাকরি হারিয়েছি এবং এর জন্য সরাসরি কমিশনই দায়ী। আজ কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে তাঁরা জানিয়েছেন যে, যোগ্য এবং অযোগ্যদের তালিকা আলাদা করা সম্ভব, এটাই আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল।”
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ২২শে এপ্রিল কলকাতা হাইকোর্ট ২০১৬ সালের পুরো শিক্ষক নিয়োগের প্যানেলটি বাতিল করে দেয়। এই রায়ের ফলে প্রায় ২৫,৭৫৩ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী তাঁদের চাকরি হারান। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার এবং এসএসসি উভয়েই সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে এবং বর্তমানে মামলাটি শীর্ষ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
এসএসসি চেয়ারম্যানের এই ঘোষণায় চাকরি হারানো সেই সকল যোগ্য প্রার্থীরা কিছুটা হলেও স্বস্তি বোধ করছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই। তবে তাঁদের ভবিষ্যৎ এখনও সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়ের উপর নির্ভরশীল। যদিও এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে যে, কমিশনের এই সদিচ্ছা এতদিন কেন দেখানো হয়নি। যদি আগেই যোগ্য প্রার্থীদের একটি স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করে আদালতে পেশ করা যেত, তাহলে এত দীর্ঘ সময় ধরে এই অনিশ্চয়তা তৈরি হত না বলে মনে করছেন অনেকে। এখন দেখার বিষয়, এসএসসি কত দ্রুততার সঙ্গে এই পৃথক তালিকা তৈরি করে আদালতে জমা দেয় এবং সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে কী রায় প্রদান করে।