পাঁচ বছরের শিশুকন্যাকে যৌন নিগ্রহের অভিযোগে গ্রেফতার প্রৌঢ়, তৃণমূল নেতার সালিশি নিয়ে বিতর্ক !

বছর পাঁচেকের এক শিশুকন্যার উপর যৌন নিগ্রহের গুরুতর অভিযোগে বাহান্ন বছর বয়সের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে লালগোলা থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি, স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার সালিশি সভা ডেকে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ ওঠায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই তৃণমূল নেতার শাস্তিরও দাবি উঠেছে। লালগোলা থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

মুর্শিদাবাদের লালগোলা থানা এলাকার একটি গ্রাম সামাজিক অবক্ষয়ের এক জঘন্য দৃষ্টান্তের সাক্ষী থাকল। অভিযোগ, এলাকারই এক প্রৌঢ় বছর পাঁচেকের এক শিশুকন্যাকে চকোলেট দেওয়ার লোভ দেখিয়ে যৌন নির্যাতন করেছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরই এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই এলাকারই বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয় এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা বিষয়টি মীমাংসা করে নেওয়ার জন্য নির্যাতিতার পরিবারকে প্রস্তাব দেন। এমনকি একটি সালিশি সভাও ডাকা হয়। কিন্তু এই খবর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরপরই নির্যাতিত শিশুর পরিবার লালগোলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করে।

বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা দাবি জানান, এমন জঘন্যতম অপরাধের জন্য অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন ঘৃণ্য কাজ করার আগে বহুবার ভাবতে বাধ্য হয়। এদিকে, সালিশি সভা ডেকে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকারী ওই তৃণমূল নেতার ভূমিকা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, যে ব্যক্তি মীমাংসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তার পরিবারের কোনও সদস্যের সঙ্গে এমন জঘন্য ঘটনা ঘটলে কি তিনি মীমাংসার কথা ভাবতেন? ওই তৃণমূল নেতারও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলেও তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। সাধারণ মানুষ আদালতের কাছে দৃষ্টান্তমূলক সাজার প্রত্যাশা করছেন, যাতে সমাজে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া যায়।