হনুমান জয়ন্তীর শোভাযাত্রা ও পুজোর অনুমতি দিল হাইকোর্ট, মেনে চলতে হবে একাধিক শর্ত !

রামনবমীর পর এবার পালিত হবে হনুমান জয়ন্তী। এই পুজো ও শোভাযাত্রা ঘিরে শহরজুড়ে চলছে প্রস্তুতি। আর এই আয়োজনের অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন উদ্যোক্তারা। তিনটি পৃথক মামলায় বৃহস্পতিবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে শুনানি হয়। শুনানি শেষে বিচারপতি বেশ কিছু শর্তসাপেক্ষে সমস্ত অনুষ্ঠানের অনুমতি প্রদান করেছেন।

প্রথম মামলায় কলেজ স্ট্রিট হনুমান মন্দির থেকে হরি ঘোষ স্ট্রিট পর্যন্ত শোভাযাত্রার অনুমতি পেয়েছে ‘হনুমান জন্মোৎসব উদযাপন সমিতি’।

শোভাযাত্রা করা যাবে আগামী ১২ই এপ্রিল, বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।
এই শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন ২০০ থেকে ২৫০ জন।
শোভাযাত্রায় কোনও ডিজে বাজানো যাবে না।
কোনও ধাতব অস্ত্র নিয়ে মিছিলে অংশ নেওয়া যাবে না।
তবে, প্রতীকী অস্ত্র হিসেবে পিভিসি দিয়ে তৈরি অস্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে।
শোভাযাত্রায় সর্বাধিক ৫টি মাইক্রোফোন, ৪টি বাইক ও ৪টি গাড়ি ব্যবহার করা যাবে।
সূত্রের খবর, এই শোভাযাত্রায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও অংশ নিতে পারেন।

দ্বিতীয় মামলায় বাঁশদ্রোণীর সতীন্দ্রপল্লির হনুমান মন্দিরে পুজো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই অনুষ্ঠানের আয়োজক ‘হনুমান জয়ন্তী উদযাপন সমিতি’। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, পুরসভার অনুমতি নিয়ে অনুষ্ঠান করতে হবে এবং অনুষ্ঠান রাত ১০টার মধ্যে শেষ করতে হবে।

তৃতীয় মামলায় বাঁশদ্রোণীর শিশুভারতী মাঠের কাছে ‘রামদূত সংঘ’-এর আয়োজনে হনুমান জয়ন্তীর অনুষ্ঠানেও অনুমতি মিলেছে। এই অনুষ্ঠান আগামী ১২ই ও ১৩ই এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। তবে, এর জন্যেও উদ্যোক্তাদের পুরসভার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিতে হবে।

সম্প্রতি রামনবমীর মিছিল নিয়েও একাধিক মামলার শুনানি হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। এবার হনুমান জয়ন্তীর ক্ষেত্রেও উদ্যোক্তারা একইভাবে আদালতের অনুমতির পথে হেঁটেছেন। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কোনও বাধা নেই, তবে জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রেখেই সমস্ত অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে হবে।