ট্রাম্পের ট্যারিফের গুঁতোয় বড় ক্ষতির মুখে চিন, কমতে পারে ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম?

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত কঠোর ট্যারিফের ধাক্কায় বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে চিন। আমেরিকার বাজারে চিনা পণ্যের বাণিজ্য কার্যত মুখ থুবড়ে পড়তে চলেছে। ওয়াশিংটন চিনের পণ্যের উপর আকাশছোঁয়া ১৪৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসিয়েছে। এর ফলে মার্কিন ক্রেতাদের চিনা পণ্য কিনতে দ্বিগুণেরও বেশি দাম গুনতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই এই সিদ্ধান্তের জেরে চিনা পণ্যের বিক্রিবাট্টায় বড়সড় প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে, আমেরিকার এই ট্যারিফ ভারতের জন্য অপ্রত্যাশিত সুযোগ নিয়ে এসেছে। একদিকে যেমন আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের জন্য নতুন বাণিজ্য পথের উন্মোচন হবে, তেমনই অন্যদিকে ভারত সস্তায় চিনা পণ্য কেনারও সুযোগ পাবে। বিশেষত, ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে।

চিন বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন কেন্দ্র। তাদের উৎপাদিত পণ্যের একটি বড় অংশই আমেরিকা সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি হয়। অ্যাপলের মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের বহু পণ্যের উৎপাদনও চিন এবং ভারতেই হয়ে থাকে। আমেরিকার নতুন ট্যারিফ নীতির কারণে চিনের রফতানি বাণিজ্য কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে আমেরিকার বাজার এবং চিনের অর্থনীতি উভয়ের উপরেই।

তবে, চিনও সহজে হাল ছাড়ার পাত্র নয়। আমেরিকার বাজারে বাণিজ্য কঠিন হয়ে যাওয়ায় বেজিং এখন ইউরোপ এবং এশিয়ার বাজারের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। আমেরিকার পরেই ভারত চিনের কাছে অন্যতম বৃহত্তম বাজার। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে চিন ভারতে বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিশেষভাবে আগ্রহী। ভারতীয় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন চিনা কোম্পানি ইতিমধ্যেই আকর্ষণীয় ছাড়ের প্রস্তাব দিচ্ছে।

চিনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি ভারতীয় কোম্পানিগুলিকে তাদের রফতানির উপর ৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার ঘোষণা করেছে। আমদানি-রফতানির এই পরিবর্তিত সমীকরণ এবং চিনের দেওয়া বিশেষ ছাড়ের কারণে ভারতের বাজারে ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম কমতে পারে। বিশেষ করে রেফ্রিজারেটর এবং স্মার্টফোনের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফ্রিজ, টেলিভিশন এবং স্মার্টফোনের মতো ইলেকট্রনিক পণ্যে চিনে তৈরি ইলেকট্রনিক চিপ ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। চিন যদি ভারতের জন্য এই ছাড়ের পরিমাণ আরও বাড়ায়, তবে এই পণ্যগুলির দাম আরও কমতে পারে। বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী মাস থেকেই এর প্রভাব বাজারে লক্ষ্য করা যেতে পারে। ভারতীয় ক্রেতাদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক খবর।