“শিক্ষকদের মেরেছে পুলিশ, এরপরও কি তৃণমূলকে ভোট দেবে মানুষ?”- সকলের কাছে প্রশ্ন মিঠুনের

রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন ধরেই সরব বিরোধী দল বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনের আগে সন্দেশখালি কাণ্ড রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় তুলেছিল এবং গেরুয়া শিবির সেই ইস্যুকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছিল। যদিও ভোটের ফলাফলে তার তেমন প্রভাব দেখা যায়নি।

বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে একের পর এক ঘটনা শাসক দলের অস্বস্তি বাড়াচ্ছে। প্রথমে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে অচলাবস্থা, এরপর প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর চাকরি হারানোর ঘটনা এবং সর্বশেষ প্রতিবাদী চাকরিপ্রার্থীদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী প্রশ্ন তুলেছেন, এরপরও কি সাধারণ মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দেবেন?

মিঠুন চক্রবর্তী আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “রাজ্যে শিক্ষকদের মারধর করা হয়েছে। এটা তো নতুন কোনও ঘটনা নয়। আমাদের পশ্চিমবঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই আক্রান্ত হতে হয়। এর আগে সাংবাদিক, ডাক্তারদের মার খেতে হয়েছে। এবার শিক্ষকদের পেটাল পুলিশ। ছাত্রদেরও তো আক্রান্ত হতে হয়েছিল। তারপরও তৃণমূল পরিচালিত সরকারকে ক্ষমতায় এনেছে মানুষ। এবার শিক্ষকদের মারধর করা হয়েছে। এরপরও কি সাধারণ মানুষ এই শাসকদলকেই ভোট দেবে? সেটাই দেখার।”

উল্লেখ্য, গত ৩রা এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী তাঁদের চাকরি হারান। এই রায়ের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ শুরু করেছেন চাকরিহারা কর্মীরা। তাঁদের এই পরিস্থিতির জন্য রাজ্য সরকার এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনকে দায়ী করেছেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাকরিহারাদের নিয়ে সভাও করেছেন এবং তাঁদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন। তবে মৌখিক আশ্বাসে সন্তুষ্ট না হয়ে চাকরিপ্রার্থীরা জেলায় জেলায় ডিআই অফিসগুলিতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

গতকাল, কসবার ডিআই অফিসে চাকরিহারারা অভিযান করেন এবং অভিযোগ ওঠে যে তাঁরা গেটের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। এর পরেই পুলিশ তাঁদের উপর লাঠিচার্জ করে এবং মারধর করে বলে অভিযোগ। এমনকি এক চাকরিহারার পেটে লাঠি মারার ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই ঘটনায় চাপে পড়েছে রাজ্য সরকারও।

এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছে রাজ্যের সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দল। আজ কলকাতার রাজপথে চাকরিহারারা মিছিল করেন। মিছিলে যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের দাবি জানানো হয়।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের একের পর এক ঘটনা শাসক দলের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে রায় দেয়, সেটাই এখন দেখার।