মুম্বই হামলার আগে আটবার রেকি, কে এই ডেভিড হেডলি?

মুম্বই হামলার অন্যতম চক্রী তাহাউর রানার ভারতে প্রত্যর্পণ ঘিরে দিল্লি বিমানবন্দরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি হয়েছে। ২৬/১১ সংক্রান্ত বহু তথ্য ইতিমধ্যেই পাতিয়ালা কোর্টে এসে পৌঁছেছে। এই আবহে বারবার ফিরে আসছে ২০০৮ সালের সেই ভয়াবহ হামলার স্মৃতি, যাতে ১৬৬ জন নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। সেই হামলার মূল ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে তাহাউরের পাশাপাশি উঠে এসেছে ডেভিড কোলম্যান হেডলির নামও।

কে এই ডেভিড হেডলি? তদন্তে জানা গিয়েছে, ২৬/১১ হামলার আগে মুম্বইয়ের বিভিন্ন স্থান আটবার ঘুরে দেখেছিলো হেডলি। ‘ইন্ডিয়া টুডে’র এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, সে নিয়মিতভাবে মুম্বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলির রেকি করে তথ্য পাচার করত। এনআইএ-র রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই সময় তাহাউরের সঙ্গে তার ২৩১ বার ফোন এবং সরাসরি যোগাযোগ হয়েছিল। শিকাগোতে একটি মামলা চলাকালীন হেডলি ও তাহাউরের যোগসূত্র প্রকাশ্যে আসে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই জানায়, ২০০৯ সালে রানা গ্রেফতার হওয়ার পর স্বীকার করে যে সে লস্কর জঙ্গি শিবির এবং সেখানে হেডলির ট্রেনিং সম্পর্কে অবগত ছিল। হেডলি নিজেও জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবিরে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে। লস্করের নির্দেশেই ভারতে নজরদারি করতে এসেছিল হেডলি, যার পরেই মুম্বইতে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়।

এফবিআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, হেডলি সাক্ষ্য দিয়েছে যে রানা এবং সে দুজনেই পাকিস্তানের একই হাইস্কুলের বন্ধু। হেডলি রানাকে ভারতে তার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে জানায় এবং মুম্বইতে তার কার্যকলাপ চালানোর জন্য একটি ‘ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড অফিস’ খুলতে রানাকে রাজি করায়। এভাবেই রানার সঙ্গে তার পরিচয় ও ষড়যন্ত্রের কথা বিস্তারিতভাবে জানায় হেডলি। শুধু তাই নয়, হেডলি আরও জানায় কিভাবে সে দুই আইএসআই অফিসার, মেজর আলি এবং মেজর ইকবালের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল এবং লস্কর রিক্রুটার সাজিদ মীরকে সে কিভাবে চিনত।

কে এই ডেভিড হেডলি, যার আসল নাম দাউদ সইদ গিলানি?

১) ডেভিড হেডলির আসল নাম দাউদ সইদ গিলানি। তার বাবা সইদ সলিম গিলানি ছিলেন পাকিস্তানের একজন খ্যাতনামা কূটনীতিক ও ব্রডকাস্টার এবং মা অ্যালিস হেডলি ছিলেন আমেরিকান।

২) আমেরিকায় আসার আগে হেডলি পাকিস্তানের একটি বোর্ডিং স্কুলে পড়াশোনা করত। পরবর্তীতে পারিবারিক বারে বারম্যান হিসেবেও কাজ করেছে সে।

৩) ১৯৯৮ সালে হেরোইন পাচার করার সময় ধরা পড়ে হেডলি। তদন্তে জানা যায়, ২০০২ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সে লস্কর-ই-তৈয়বার প্রশিক্ষণ শিবিরেও অংশ নিয়েছিল।

৪) ডেনমার্কে হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ২০০৯ সালে হেডলি গ্রেফতার হয় এবং বর্তমানে ৩৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছে।

তাহাউর রানার প্রত্যর্পণের পর হেডলির দেওয়া সাক্ষ্য এবং তথ্যের ভিত্তিতে নতুন করে তদন্ত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, হেডলির সঙ্গে রানাকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করলে ২৬/১১ হামলার আরও অনেক অজানা তথ্য উঠে আসতে পারে।