“ভারতের সমুদ্র রক্ষা করবে ২৬ রাফাল”-জাতীয় নিরাপত্তায় বড় পদক্ষেপ কেন্দ্র সরকারের

জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতীয় নৌবাহিনীর শক্তি আরও বাড়াতে ফ্রান্সের থেকে ২৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS) এই ক্রয় সংক্রান্ত ৬৩,০০০ কোটি টাকার চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য অনুমোদন দিয়েছে।
সূত্রের খবর, এই ২৬টি রাফাল এম (Rafale M) যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ভারত সরকার ফ্রান্স সরকারের সঙ্গে একটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় চুক্তি স্বাক্ষর করবে। রাফাল যুদ্ধবিমান প্রস্তুতকারক সংস্থা হল ফ্রান্সের ডাসল্ট এভিয়েশন। কেনা হবে ২২টি সিঙ্গেল সিট এবং ৪টি ডাবল সিটের যুদ্ধবিমান। এই চুক্তির মধ্যে রক্ষণাবেক্ষণ, লজিস্টিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং ভারতে তৈরি সরঞ্জামের একটি বিস্তৃত প্যাকেজও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। নৌবাহিনীর কর্মীদের প্রশিক্ষণও এই চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আশা করা হচ্ছে, চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় চার বছর পর রাফাল এম জেটগুলির সরবরাহ শুরু হবে। ভারতীয় নৌবাহিনী ২০২৯ সালের শেষ নাগাদ প্রথম বিমানটি হাতে পাবে এবং ২০৩১ সালের মধ্যে ২৬টি বিমানই ভারতে এসে পৌঁছাবে।
এর আগে ভারত ফ্রান্সের থেকে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কিনেছিল, যা ভারতীয় বিমান বাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি করেছে। রাফাল এম হল তারই নৌ সংস্করণ। এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলি ভারতের বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রমাদিত্য এবং নবনির্মিত আইএনএস বিক্রান্তের ডেকে মোতায়েন করা হবে। পুরনো মিগ-২৯কে (MiG-29K) বিমানের পরিবর্তে এই নতুন রাফাল এম সমুদ্রসীমার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ক্যারিয়ার-বেসড অপারেশনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি রাফালে এম-এ শক্তিশালী ল্যান্ডিং গিয়ার, অ্যারেস্টার হুক এবং শর্ট টেক-অফ বাট অ্যারেস্টেড রিকভারি (STOBAR) অপারেশনের জন্য শক্তিশালী কাঠামো থাকবে। এই যুদ্ধবিমানগুলি মেটিওর (Meteor) এবং এক্সোসেটের (Exocet) মতো উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে সক্ষম। এছাড়াও, এতে অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিকলি স্ক্যানড অ্যারে (AESA) রাডার এবং স্পেকট্রা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট (Spectra Electronic Warfare Suite) এর মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি থাকবে। এই বিমানটি সর্বোচ্চ ম্যাক ১.৮ গতিতে উড়তে পারে এবং এর কমব্যাট রেঞ্জ ১,৮৫০ কিলোমিটারের বেশি। মাঝ আকাশে জ্বালানি ভরার ক্ষমতাও রয়েছে এই যুদ্ধবিমানের।
ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য এই রাফাল এম যুদ্ধবিমানগুলির অন্তর্ভুক্তি দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং কৌশলগত দিক থেকে ভারতকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।