ঝাড়গ্রামে রহস্যমৃত্যু মাঝবয়সী দাঁতালের! হাতির মৃত্যু ঘিরে ছড়াচ্ছে ভয়ের পরিবেশ, ডিহাইড্রেশন নাকি অন্যকিছু?

জঙ্গলমহলে হাতির হানায় মানুষের মৃত্যুর ঘটনা প্রায়শই ঘটে থাকে। তবে এবার ঝাড়গ্রামের নয়াগ্রামে একটি ১৫ বছর বয়সী মাঝবয়সী দাঁতাল হাতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কলমা পুখুরিয়া বিটের অন্তর্গত ৭৬ নম্বর খাস জঙ্গলের মধ্যে হাতিটিকে মৃত অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথম হাতিটিকে জঙ্গলে বসে থাকতে দেখেন। এরপর ধীরে ধীরে ভিড় জমে। দুপুর দুটো নাগাদ বন দফতরে খবর দেওয়া হয়। বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাতিটিকে বসে থাকা অবস্থায় দেখতে পান। প্রাথমিকভাবে তাঁরা নিশ্চিত ছিলেন না হাতিটি মারা গিয়েছে কিনা। কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণের পর বনকর্মীরা বুঝতে পারেন হাতিটি মৃত। এরপর শিকল দিয়ে বেঁধে জেসিবির সাহায্যে হাতিটির দেহ উদ্ধার করে ট্রাক্টরে চাপিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়।

খড়গপুরের ডিএফও মণিশ যাদব জানান, “প্রায় ১৫ বছর বয়সী দাঁতাল হাতিটি যেভাবে বসে ছিল, তাতে প্রথমে দেখে বোঝার উপায় ছিল না সেটি মারা গিয়েছে। পরে আমরা বুঝতে পারি হাতিটি মৃত। এরপর তার ময়নাতদন্ত করা হয়। শরীরের বাইরে কোনও আঘাতের চিহ্ন মেলেনি। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চিকিৎসকরা ডিহাইড্রেশনকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। সরকারি নিয়ম মেনেই হাতির দাঁত কেটে পুড়িয়ে ফেলা হবে।”

জঙ্গলমহলের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে দলমার বহু দাঁতাল হাতির আনাগোনা লেগেই থাকে। মাঝেমধ্যে হাতির আক্রমণে মানুষের প্রাণহানি ঘটে। আবার মানুষের ভুলেও হাতির মৃত্যু হয়। তবে এই দাঁতাল হাতির মৃত্যু কীভাবে ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে বন দফতর সূত্রে খবর। প্রাথমিক রিপোর্টে ডিহাইড্রেশনের কথা বলা হলেও, বন দফতর অন্যান্য কারণও খতিয়ে দেখছে। হাতির আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় চাঞ্চল্য ও ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।