আইনি বিয়েই যথেষ্ট, যৌন সম্পর্কের জন্য ধর্মীয় আচার জরুরি নয়: বড় মন্তব্য বম্বে হাইকোর্টের !

আইনি বিয়ে, তার বৈধতা এবং যৌনতা নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করল বম্বে হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, বিয়ের পর আইনি স্বীকৃতি থাকলেই দম্পতিরা যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তৈরি হওয়া শারীরিক সম্পর্ককে কোনোভাবেই ‘ধর্ষণ’ বলা যাবে না। এমনকি, আইনি বিয়ের পর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনেরও কোনো আবশ্যকতা নেই বলে জানিয়েছে আদালত। ধর্মীয় রীতি-নীতি ছাড়াই শুধুমাত্র আইনি স্বীকৃতির মাধ্যমেই যৌন সম্পর্ক বৈধ বলে গণ্য হবে।
সম্প্রতি বম্বে হাইকোর্টে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর খারিজ করে দিয়েছে আদালত। ঘটনাটি ছিল এরকম, অভিযোগকারিণী এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনিভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তবে তাঁদের বিয়ে ধর্মীয় আচার মেনে সম্পন্ন হয়নি। এরপরেও যখন ওই দম্পতি শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন, তখন স্ত্রী স্বামীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেন যে, আইনি বিয়ে হলেও ধর্মীয় স্বীকৃতি না থাকায় এবং অনুষ্ঠান করে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা পালন না করায় স্বামী তাঁকে ‘ধর্ষণ’ করেছেন।
এই মামলার শুনানিতে বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি ভারতী ডাংরে এবং নিবেদিতা মেহতার ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হলে, তার জন্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের কোনো প্রয়োজন নেই। আইনি স্বীকৃতিই এক্ষেত্রে যথেষ্ট। আদালত আরও জানায়, আইনিভাবে বিবাহিত হওয়ার অর্থই হল তাঁদের স্বামী-স্ত্রীরূপে স্বীকৃতি দেওয়া। সেক্ষেত্রে, বিয়ের বৈধতার জন্য ধর্মীয় রীতিনীতি পালন বাধ্যতামূলক নয়।
আদালতের এই রায় সেই মহিলার দায়ের করা এফআইআর খারিজ করে দিয়েছে এবং বিবাহের আইনি বৈধতা এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যৌন সম্পর্কের অধিকার নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল।