‘যোগ্য’তার বিচার চাওয়াতেই চাকরিহারাদের ‘লাঠিচার্জ’ পুলিশের, চলল ধরপাকড়! ছবি দেখলে শিহরিত হবেন

তপ্ত দুপুরে রাজপথ উত্তাল। চাকরি হারানোর ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে জেলা থেকে জেলায়। বুধবার নিজেদের ‘যোগ্যতা’র বিচারের দাবিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে চেয়েছিলেন চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা। কিন্তু তার বদলে জুটল পুলিশের লাঠির ঘা। কসবার ডিআই অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে গেলে পুলিশের নির্বিচারে লাঠিচার্জের শিকার হন তাঁরা। মহিলা শিক্ষকদেরও নিস্তার মেলেনি বলে অভিযোগ। চাকরিহারাদের পাল্টা হুঙ্কার, “টেনে নামব এই সরকারকে।”

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাতারাতি প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিল হওয়ার পর থেকেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস তাঁদের সামান্যও শান্ত করতে পারেনি। উল্টে মুখ্যমন্ত্রীর স্বেচ্ছাশ্রমের পরামর্শ যেন আগুনে ঘি ঢেলেছে। বুধবার রাজ্যজুড়ে ডিআই অফিস ঘেরাও কর্মসূচিতে নামেন চাকরিহারারা।

কসবার ডিআই অফিসের দিকে শান্তিপূর্ণ মিছিল করে এগোচ্ছিলেন চাকরিহারা শিক্ষকরা। অফিসের কাছে পৌঁছতেই পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। এরপরই শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি। অভিযোগ, পুলিশ টেনে হিঁচড়ে বিক্ষোভকারীদের সরানোর চেষ্টা করে, যার ফলে বেশ কয়েকজন মাটিতে পড়ে যান। সেই অবস্থাতেই তাঁদের উপর লাঠিচার্জ করা হয় বলে অভিযোগ। লাঠির আঘাতে গুরুতর চোট পান বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা। মহিলাদেরও বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

পুলিশের এই ‘অমানবিক’ আচরণের প্রতিবাদে চাকরিহারারা ডিআই অফিসের সামনেই শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ জানাতে শুরু করেন। এক মহিলা চাকরিহারা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ছুটে আসেন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরাও।

চাকরিহারাদের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়তে থাকে। এক বিক্ষোভকারী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “পয়সা ছাড়া একটা কাজ হয় না, একটা ফাইল এ টেবিল থেকে ও টেবিল যায় না। পেনশন হোক, যা হোক… এখন ওরা বসে বসে মজা নিচ্ছেন।” আরেকজন বলেন, “ডিআই-ও ঘুষ খান। আমরা জঙ্গি নই, আমাদের কেন লাঠিপেটা? আমরা কি অস্ত্র নিয়ে এসেছিলাম? কার নির্দেশে এমনটা হল?” শিক্ষক অনিশ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এত তো ভিডিও হচ্ছে, দেখান তো কোথাও আমরা ভায়োলেন্ট হয়েছি? আজ আমরা শিক্ষক হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে, হাতে পেন কোথায়? ছাত্রদের চোখে চোখ রাখতে পারছি না।”

হাতে পাঁচশো টাকার নোট নিয়ে প্রতীকী বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন অসহায় শিক্ষকরা। এক চাকরিহারা বলেন, “পুলিশ ঘুষ দেব, ঘুষ… আমাদের দেখা করতে দিন। আমরা পুলিশকে ঘুষ দিতে চাইছি। আমাদের ওপর অন্যায় হয়ে আসছে।” আরেকজন বলেন, “ঘুষখোরদের ঘুষই দেব। যোগ্যতার, শিক্ষার যেখানে কোনও মূল্য নেই, সেখানে টাকারই মূল্য!” অপর এক শিক্ষক বলেন, “আমাদের ভেরিফিকেশনের সময়েও ওরা টাকা ডিমান্ড করেছিল। আমাদের যোগ্য শিক্ষকরা যারা পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য প্রস্তুত ছিল, তখনও টাকা ডিমান্ড করেছিল। কারোর পাঁচশো টাকা, কারোর ১০০০ টাকা দাবি করেছিল। এখন ওরা ২ টাকা ঘুষের যোগ্য।”

শিক্ষকদের উপর পুলিশের এই লাঠিচার্জের ঘটনায় তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে বিভিন্ন মহলে। মানবাধিকার কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সকলেই পুলিশের এই আচরণকে ‘অমানবিক’ বলে ধিক্কার জানিয়েছেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।