কন্যাসন্তানকে রাজকন্যার মতো বরণ, ব্যান্ড-ডিজে-বেলুনে মাতোয়ারা গ্রাম, খুশি পরিবারের সকলে

সমাজে যেখানে এখনও কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়া নিয়ে বহু পরিবারে অবহেলা ও বৈষম্যের ছবি দেখা যায়, সেখানে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পতিরাম উত্তর রায়পুরের কুন্ডু পরিবার। সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে নার্সিংহোম থেকে বাড়ি ফেরাতে তারা যে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করল, তা শুধু এলাকাবাসীকে বিস্মিতই করেনি, বরং সকলের মন জয় করে নিয়েছে।

পেশায় মোবাইল ফোন বিক্রেতা সৈকত কুন্ডু ও বিপাশা সাহা কুন্ডুর কন্যাসন্তান চার দিন আগে বালুরঘাটের একটি নার্সিংহোমে জন্মগ্রহণ করে। গত সোমবার দুপুরে যখন মা ও তাদের সদ্যজাত কন্যাকে নিয়ে তারা বাড়ি ফিরছিলেন, তখন এলাকার মানুষজন ব্যান্ডপার্টি, ডিজে এবং রঙ-বেরঙের বেলুনে সজ্জিত একটি গাড়ি দেখে অবাক হয়ে যান। কন্যাসন্তানকে বরণ করার জন্য যে এলাহি আয়োজন করা হয়েছিল, তা কন্যাসন্তানের প্রতি সম্মান ও তাদের আনন্দময় আগমনের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

গাড়িটিকে বিভিন্ন রঙের বেলুন দিয়ে সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছিল, বাজছিল ব্যান্ড ও ডিজে-র সুর, আর সেই গাড়ি থেকে কোলে কন্যাসন্তানকে নিয়ে নামেন মা বিপাশা। এরপর মা ও মেয়েকে ফুল ছিটিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। চারদিকে তখন শুধুই খুশির রোল।

এই উদ্যোগ কোনো প্রকার লোক দেখানো বা বাহুল্য নয়, বরং এর মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সৈকত কুন্ডু বলেন, ‘অনেকেই আজও কন্যাসন্তান হলে দুঃখ পান। কিন্তু আমরা বরং গর্বিত যে আমাদের কন্যা হয়েছে। তাই তাকে সম্মান জানিয়ে আনন্দের সঙ্গে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি।’

এলাকার সাধারণ মানুষ মনে করছেন, এই ঘটনা কন্যা ভ্রূণ হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিবাদ হিসেবে সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেবে। অনেকেই বলছেন, সমাজে যদি এমন উদার ভাবনা আরও বেশি করে ছড়িয়ে পড়ে, তবে নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে এবং জন্মলগ্ন থেকেই সম্মানের একটি সুস্থ পরিবেশ তৈরি হবে। কুন্ডু পরিবারের এই দৃষ্টান্ত নিঃসন্দেহে অন্যদেরকেও কন্যাসন্তানের প্রতি আরও বেশি শ্রদ্ধাশীল হতে উৎসাহিত করবে।