“উধাও ১৯ লক্ষ কোটি টাকা!”-ট্রাম্পের নয়া শুল্ক নীতির ধাক্কায় রক্তাক্ত ভারতীয় শেয়ারবাজার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির জের আছড়ে পড়ল ভারতীয় শেয়ার বাজারে। সোমবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ভয়াবহ ধস নামে সেনসেক্স ও নিফটিতে। এক ধাক্কায় বিনিয়োগকারীদের প্রায় ১৯ লক্ষ কোটি টাকা উধাও হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই আকস্মিক শুল্ক নীতির কারণেই শেয়ার বাজারের এই করুণ দশা। শুধু ভারত নয়, গোটা এশিয়ার শেয়ার বাজারেই আজ রক্তক্ষরণ দেখা গেছে।

এদিন সকালে বাজার খোলার পরেই সেনসেক্স ৩,৯৩৯.৬৮ পয়েন্ট পড়ে গিয়ে ৭১,৪২৫.০১-এ এসে দাঁড়ায়। একই সময়ে নিফটিও ১,১৬০.৮ পয়েন্ট কমে ২১,৭৪৩.৬৫-তে পৌঁছায়। বেলা সাড়ে দশটা নাগাদ সেনসেক্সের সূচক ২৯৭৯ পয়েন্ট নীচে অবস্থান করছিল।

ধসের ধাক্কায় টাটা স্টিল (-১০%), টাটা মোটরস (-৭.৮৬%), ইনফোসিস (-৬.৯৮%), টেক মাহিন্দ্রা (-৬.৩৬%) এবং এলএন্ডটি (-৬.৪৫%) এর মতো বড় সংস্থাগুলির শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। প্রায় সমস্ত সেক্টরের শেয়ারে ব্যাপক বিক্রি দেখা গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

ট্রাম্পের শুল্ক নীতির প্রভাবে যেভাবে বিশ্ব শেয়ার বাজারের সূচক মুখ থুবড়ে পড়েছে, তাতে বহু বিনিয়োগকারীর মনে ১৯৮৭ সালের ‘ব্ল্যাক মানডে’-র স্মৃতি ফিরে এসেছে। ১৯৮৭ সালের ১৯ অক্টোবর বিশ্বের শেয়ার বাজারের ইতিহাসে এক কালো দিন ছিল। সেদিন ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ সূচক মাত্র একদিনে ২২.৬ শতাংশ পড়ে গিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই একই রকম পতনের আশঙ্কা করছেন অনেক বিনিয়োগকারী।

তবে, বিশ্বের শেয়ার বাজারে এই টালমাটাল পরিস্থিতি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তেমন চিন্তিত মনে হয়নি। তিনি তাঁর নীতিকে সমর্থন করে বলেছেন, “এটা একটা ওষুধ খাওয়ার মতো। অসুস্থ অর্থনীতিকে সুস্থ করার জন্য এই ধাক্কা দরকার।” তাঁর এই মন্তব্য বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

ভারতীয় শেয়ার বাজারের এই অপ্রত্যাশিত ধস দেশের অর্থনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার। বিনিয়োগকারীরা তাকিয়ে আছেন বাজারের পরবর্তী গতিবিধির দিকে।