অপছন্দের ক্যালিগ্রাফিই ত্রাতা! ২৩ কোটি টাকার ঋণ শোধ করলেন চিনা যুবক

পাঁচ বছর বয়স থেকেই তাঁর একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে ঝোঁক ছিল স্পষ্ট। কিন্তু বাবা-মা চাননি ছেলে সেই পথে এগোয়। তাঁদের ধারণা ছিল, এই বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া কঠিন। তবে ছেলের মনে ছিল অদম্য স্পৃহা।

তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাবা-মাকে একসময় নমনীয় হতে হয়। ছেলেটি নিজের পছন্দের বিষয়ে দক্ষতা বাড়াতে থাকে এবং অবশেষে ক্যালিগ্রাফি নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে। চিনের প্রাচীন শিল্প চৈনিক ভাষাকে সুন্দরভাবে লেখার এই দক্ষতায় রীতিমতো পারদর্শী হয়ে ওঠেন তিনি। চিনা ক্যালিগ্রাফিতে ডিগ্রি নিয়ে ফাইন আর্টস ইনস্টিটিউট থেকে পাশ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য ফ্রান্সেও যান।

Related Articles:

গায়ে বড় দুর্গন্ধ, বিমানে ২ মহিলার গন্ধবিচার সামলাতে গিয়ে কামড় খেলেন বিমানকর্মী (April 6, 2025)
যে সংস্থায় কাজ করেন তার বাথরুম ভাড়া নিলেন তরুণী, কেন জানলে বিশ্বাস হবেনা (March 30, 2025)
তবে খুব দ্রুতই নিজের দেশ চিনে ফিরে আসেন চেন ঝাও নামের সেই যুবক। ততদিনে তাঁদের পারিবারিক পোশাকের ব্যবসায় ধস নেমেছে। বাবা-মায়ের মাথার ওপর চেপে বসেছে পাহাড় প্রমাণ ঋণ, ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৩ কোটি টাকা!

অন্য কোনো উপায় না দেখে চেন ঝাও শুরু করেন ক্যালিগ্রাফি প্রশিক্ষণ। অন্য সবকিছু ছেড়ে দিয়ে কেবল ছাত্রছাত্রীদের প্রশিক্ষণে মনোযোগ দেন তিনি। সেই রোজগার থেকে অর্থ জমাতে শুরু করেন বাবা-মায়ের ঋণ শোধ করার জন্য। খুব অল্প সময়েই তাঁর ক্যালিগ্রাফি শিক্ষাকেন্দ্র জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং রোজগারও বাড়তে থাকে।

এভাবে টানা সাত বছর ধরে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রমের পর অবশেষে সেই যুবক তাঁর বাবা-মায়ের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করতে সক্ষম হন। তাঁর এই অসাধারণ গল্প এখন চিনের মানুষের মুখে মুখে ফিরছে, তিনি যেন এক জীবন্ত উদাহরণ।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এই খবরটি প্রকাশ করার পর বিশ্বজুড়ে বহু সংবাদমাধ্যমে তা গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পায়। ফলে চেন ঝাও-এর বাবা-মায়ের ঋণ শোধের এই অনুপ্রেরণামূলক কাহিনী এখন অনেকেরই জানা।

বাবা-মা যে শিক্ষাকে কখনও গুরুত্ব দেননি, নিজের ভালোবাসার টানে সেই ক্যালিগ্রাফি শিক্ষাই আজ তাঁদের ২৩ কোটি টাকার ঋণমুক্ত করতে সাহায্য করল। এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করল যে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষা নয়, বরং হৃদয় থেকে ভালোলাগার বিষয় নিয়ে পড়াশোনা এবং কঠোর পরিশ্রমই মানুষকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিতে পারে।